দ্য ওয়াল ব্যুরো : শুক্রবার দুপুরে বাংলাদেশে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার আন্ডারিয়া গ্রামে পরিত্যক্ত ইটভাটার পাশে মিলল এক যুবকের দেহ। তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। লাশের গলায় সুতো দিয়ে আটকানো আছে একটি চিরকুট। তাতে লেখা, আমি ধর্ষক রাকিব। ইহাই ধর্ষকের পরিণতি। ধর্ষকেরা সাবধান। ইতি, হারকিউলিস।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ব্যক্তির নাম রাকিব মোল্লা। বয়স ২০। সাতদিন ধরে সে নিখোঁজ ছিল। তার বাড়ি পিরোজপুর ভান্ডারিয়া উপজেলার ভিটাবাড়িয়া গ্রামে। সে এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল। গত ১৪ জানুয়ারি ওই এলাকায় ১৩ বছরের এক ছাত্রী ধর্ষিত হয়। রাকিব ছিল ধর্ষণের মামলায় প্রধান আসামী। ওই কেসের ওপর আসামী সজল জমাদ্দারেরও লাশ পাওয়া গিয়েছে শনিবার দুপুরে।
সজলের দেহ উদ্ধার হয় ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার বলতলা গ্রাম থেকে। তার বয়স ছিল ৩০। তারও বুকে আটকানো ছিল চিরকুট। তাতে লেখা, আমি ধর্ষক। ইহাই আমার পরিণতি। এর পরে সজলের বাবার কাঁঠালিয়া থানায় ধর্ষিতার বাবা ও ওপর কয়েকজন আত্মীয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ, গত ১৪ জানুয়ারি বেলা ১১ টা নাগাদ ওই কিশোরীকে রাকিব ও সজল মুখ চেপে ধরে একটি পানের বরোজে নিয়ে যায়। তারপর ধর্ষণ করে। সেই ঘটনা ভিডিও করা হয়। ১৭ জানুয়ারি মেয়েটির বাবা স্থানীয় থানায় রাকিব ও সজলের নামে অভিযোগ করেন। তারপরে দুই অভিযুক্ত এলাকা ছেড়ে চলে যায়। রাকিবের বাবা জানিয়েছেন, তাঁর ছেলে ঢাকার নবীনগর এলাকায় এক বন্ধুর বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল।
২৫ জানুয়ারি সন্ধায় নবীনগরের গণস্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় রাকিব ও তার বন্ধু একটি চায়ের দোকানে বসেছিল। সন্ধ্যা ছ’টা নাগাদ সেখানে একটি মাইক্রোবাস এসে থামে। কয়েকজন রাকিব ও তার বন্ধুকে তুলে নিয়ে যায়। পরে বন্ধুকে ছেড়ে দেয়। কিন্তু রাকিবের খোঁজ মেলেনি। তার মা শনিবার থানায় জেনারেল ডায়েরি করতে যান। কিন্তু পুলিশ জিডি নেয়নি। তার বাড়ির লোকের সন্দেহ, আইনরক্ষকরাই রাকিবকে তুলে নিয়ে গিয়ে মেরেছে।
বাংলাদেশে পুলিশের হাতে অপরাধীদের মারা পড়ার ঘটনা নতুন নয়। গত বছরেই র্যাবের হাতে মাদক পাচারকারীদের অনেকে মারা পড়েছিল। প্রতিটি ক্ষেত্রে পুলিশ বলেছে, সংঘর্ষে দুষ্কৃতীদের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অপরাধীদের তুলে নিয়ে গিয়ে র্যাব গুলি করে মেরেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, রাকিব ও সজলের হত্যাকারীদের খুঁজে বার করার চেষ্টা হচ্ছে। রাকিবের দেহটি পাওয়ার পরে দেখা যায়, তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন আছে।