দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুড়ে গিয়েছিল কচি হাতটা। তাও ডাক্তার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতেই। যতক্ষণে হুঁশ ফেরে ডাক্তার-নার্সের গোটা হাতটাই প্রায় পচে গিয়েছিল মাস দুয়েকের শিশুর। অপারেশন করে বাদ দিতে হল সেই হাত।
ঘটনা মুম্বইয়ের কেইএম হাসপাতালের। হাসপাতাল সূত্রে খবর, গতকাল বুধবার অস্ত্রোপচার করে দু’মাসের প্রিন্স রাজভরের বাঁ হাত বাদ দিতে হয়েছে। যদিও কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কথাটা বেমালুপ চেপে গিয়েছেন হাসপাতাল সুপার। প্রিন্সের বাবা পান্নিলাল জানিয়েছেন, কর্তব্যরত ডাক্তার, নার্স ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
উত্তরপ্রদেশের আজমগড়ের বাসিন্দা প্রিন্স। জন্মের পর থেকে হার্ট দুর্বল ছিল ছোট্ট প্রিন্সের। শ্বাসের সমস্যা ছিল। মুম্বইয়ের কেইএম হাসপাতালে প্রিন্সের চিকিৎসা শুরু হয়। সেখানে তাকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিল। পান্নিলাল জানিয়েছেন, গত ৬ নভেম্বর ওই হাসপাতালের আইসিইউতে আগুন লেগে যায়। অভিযোগ ওঠে, হাসপাতালের ইলেকট্রিশিয়ানের গাফিলতিতেই ওই আগুন লাগে। পুড়ে যায় শিশুটির বাঁ হাত। ছোট্ট শরীরেরও কিছু অংশ পুড়ে গিয়েছিল।
শিশুর পরিবারের দাবি, এরপরেও প্রিন্সকে সেই দগদগে পোড়া ক্ষত নিয়েই ভেন্টিলেশনে ফেলে রেখেছিলেন ডাক্তাররা। কোনও চিকিৎসাই হয়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও লাভ হয়নি। শেষে হাতে পচন ধরতে শুরু করে। ডাক্তারের হাতেপায়ে ধরতে হয় পান্নিলাল ও তাঁর স্ত্রীকে। শিশুর বাবার কথায়, “সেই আজমগড় থেকে মুম্বই নিয়ে এসেছিলাম ছেলেকে। একদিন মাঝরাতে আইসিইউতে আগুন লাগে। পুড়ে যায় আমার ছেলের হাত। এরপরেও কোনও চিকিৎসা হয়নি। প্রায় এক সপ্তাহ ফেলে রাখা হয়েছিল সেভাবেই । শেষে ডাক্তার বললেন হাতটা পচে গেছে। কেটে বাদ দিতে হবে।”
যদিও এই অভিযোগ উড়িয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছেন, ইলেকট্রোডায়াগ্রামের নডসে শর্ট সার্কিট হয়েছিল। এটা নিছকই দুর্ঘটনা। তারপরে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৩৮ ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ডাক্তার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।