দ্য ওয়াল ব্যুরো : মধ্যপ্রদেশের ভিন্দ জেলার প্রেমনগর অঞ্চলে শুক্রবার করোনা টেস্ট করা হচ্ছিল। তখন দিল্লি থেকে আসা এক ব্যক্তির টেস্ট করা নিয়ে দু’দলের মধ্যে বচসা শুরু হয়। তা থেকে শুরু হয় মারপিট। এক বৃদ্ধা সহ দু’জন মারপিটের মধ্যে পড়ে নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন তিনজন।
পুলিশ জানিয়েছে, একদল লোক বলে, দিল্লি থেকে আসা ওই ব্যক্তিকে করোনা টেস্ট করাতে হবে। কারণ সারা দেশের মধ্যে যে শহরগুলিতে করোনার প্রকোপ সবচেয়ে বেশি, দিল্লি তাদের অন্যতম। কিন্তু ওই ব্যক্তি বলেন, তিনি আগেই টেস্ট করিয়েছেন। তাঁর কথায় অনেকে বিশ্বাস করেনি। সেই নিয়ে শুরু হয় তর্ক। তারপর দু’দলের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
চলতি সপ্তাহে এই নিয়ে দু’বার মধ্যপ্রদেশে হিংসাত্মক ঘটনা ঘটল। সেখানে এখনও পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে যথেষ্ট উত্তেজনা রয়েছে। একদল পরিযায়ী শ্রমিক মধ্যপ্রদেশ থেকে নিজেদের রাজ্যে ফিরছেন। আবার মধ্যপ্রদেশের একদল শ্রমিক ভিন রাজ্য থেকে ফিরছেন বাড়িতে। দিল্লি ও অন্যান্য যে শহরে করোনাভাইরাস ছড়িয়েছে, সেখান থেকে অনেক পরিযায়ী ফিরেছেন মধ্যপ্রদেশে। অনেকের আশঙ্কা, এর ফলে রাজ্যে বাড়তে পারে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। রাজ্যের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপরে এমনিতেই যথেষ্ট চাপ পড়েছে। তার ওপরে আচমকা যদি সংক্রমণ বেড়ে যায়, তাহলে মুশকিল হবে।
দিল্লিতে প্রায় ৯ হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গিয়েছেন ১২৩ জন। মধ্যপ্রদেশে করোনা পজিটিভের সংখ্যা ৪৫৯৫। মৃত্যুর সংখ্যা ২৩৯। গত বৃহস্পতিবার মহারাষ্ট্র সীমান্তে সেনধাওয়া শহরে কয়েক হাজার পরিযায়ী শ্রমিক বিক্ষোভ দেখান। অভিযোগ, সরকার তাঁদের জন্য খাবার বা পরিবহণের ব্যবস্থা করেনি। সেনধাওয়াতে তোলা এক ভিডিওয় দেখা যায়, শত শত মানুষ চিৎকার করছেন। হাইওয়ে দিয়ে দৌড়চ্ছেন। একটি রিপোর্টে জানা যায়, পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথরও ছোড়া হয়েছিল।
চলতি মাসের শুরুতে বারওয়ানি অঞ্চলে শ্রমিকরা বিক্ষোভ দেখান। অভিযোগ, প্রশাসন জেলার সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছিল। পরিযায়ীদের দাবি ছিল, তাঁদের ওই জেলার ওপর দিয়ে যাতায়াত করতে দেওয়া হোক।