
শেষ আপডেট: 23 August 2020 18:30
পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা গ্রহাণু বা মহাজাগতিক বস্তুদের অনুসন্ধান সম্পর্কিত গবেষণা বা নিয়ার আর্থ অবজেক্ট প্রোগ্রামের অধীনে এমন মহাজাগতিক বস্তুদের হদিশ দিয়েছে এই দুই পড়ুয়া। তার মধ্যেই ছিল ২০২০ কিউজি গ্রহাণুও। এই প্রজেক্টের তত্ত্বাবধানে থাকা গবেষক বরুণ ভালেরাও বলেছেন, নাসা এই গ্রহাণুর খবর সামনে আনার পরেই বোঝা যায় কুণাল ও কৃতী রেকর্ড করে ফেলেছে। তারাই প্রথম এই গ্রহাণুর বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছে। গবেষক জানাচ্ছেন, লাদাখের গ্রোথ-ইন্ডিয়া টেলিস্কোপ প্রজেক্টে পরবর্তী মিশনের জন্য তৈরি হচ্ছে এই দুই পড়ুয়া।
পুণের বাসিন্দা কুণাল দেশমুখ আইআইটি বম্বের মেটালার্জি অ্যান্ড মেটিরিয়াল সায়েন্সের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। তিনি জানিয়েছেন, অন্যান্য গ্রহাণুদের মতোই ২০২০ কিউজি পৃথিবীর খুব কাছে চলে আসবে এমন সম্ভাবনাই দেখা গিয়েছিল। পরে দেখা যায়, পৃথিবীর উপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় এর দূরত্ব কমে হয়েছিল ২৯৫০ কিলোমিটার (১৮৩০ মাইল)।
ধূমকেতু বা গ্রহাণুর মতো মহাজাগতিক বস্তুরা পৃথিবীর কাছাকাছি চলে এলে বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল এমন এক চাদর যা মহাজাগতিক বস্তু বা মহাজাগতিক রশ্মির হাত থেকে পৃথিবীর পিঠকে রক্ষা করে চলে। চাঁদে এই বায়ুমণ্ডল নেই। তাই মহাজাগতিক রশ্মিরা সরাসরি চাঁদের মাটিতে আছড়ে পড়ে। গ্রহাণু বা ধূমকেতুর সঙ্গে বায়ুর কণার ঘর্ষণ হলে তাতে আগুন ধরে যায়। অনেক সময় দেখা যায় গ্রহাণু বা ধূমকেতু থেকে ছিটকে বের হওয়া অংশের সঙ্গে বায়ুর ঘর্ষণে আগুনের ফুলকি তৈরি হয়েছে। সেইসব টুকরো জ্বলতে জ্বলতে পৃথিবীর মাটিতে নেমে এসেছে। একেই বলে উল্কাবৃষ্টি।
কুণাল ও কৃতী জানিয়েছেন, পৃথিবীর কক্ষের সঙ্গে ৪৫ ডিগ্রি হেলে গিয়েছিল এই গ্রহাণুর গতিপথ। তাই কাছাকাছি এলেও পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে সংঘাত হয়নি। এর গতিবেগ ছিল প্রতি সেকেন্ডে ৮ মাইল (১২.৩ কিলোমিটার/সেকেন্ড)। গত কয়েকবছরে পৃথিবীর এত কাছাকাছি কোনও গ্রহাণুকে চলে আসতে দেখা যায়নি। গত মাসেই পৃথিবীর কাছে চলে এসেছিল ‘অ্যাস্টেরয়েড ২০২০ এনডি’। নাসা জানিয়েছিল, এই গ্রহাণু নাকি আকারে ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যশালী ‘লন্ডন আই’-এর থেকেও বিরাট। এর গতি ছিল ঘণ্টায় ৪৮ হাজার কিলোমিটার। ১৭০ মিটার লম্বা এই গ্রহাণুর থেকে পৃথিবীর দূরত্ব ছিল ০.০৩৪ অ্যান্ট্রনমিকাল ইউনিট অর্থাৎ প্রায় ৫০ লক্ষ ৮৬ হাজার ৩২৮ কিলোমিটার।
https://twitter.com/AsteroidWatch/status/1297576303206576133
নাসা জানিয়েছে, আরও একটি গ্রহাণুর পৃথিবীর সঙ্গে সংঘাত হতে পারে নভেম্বরে। তীব্র বেগে সেটি ধেয়ে আসছে পৃথিবীরই দিকে। ৩ নভেম্বর আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগের দিনই পৃথিবীর সঙ্গে টক্কর হতে পারে এই গ্রহাণুর। নাসার নিয়ার আর্থ অবজেক্ট মিশনে বলা হয়েছে, এই গ্রহাণুর নাম ২০১৮ভিপি১ (2018VP1)। তবে এর আকার এতই ছোট যে বায়ুর কণার সঙ্গে সংঘর্ষ হলেও তেমন ক্ষতি কিছু হবে না। মহাকাশবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই গ্রহাণুর পরিধি ০.০০২ কিলোমিটার (প্রায় ৬.৫ ফুট)।
গত মাসেই ১০৮ ফুট পরিধির ২০২০ কেকে৭ গ্রহাণুটি পৃথিবীর একেবারে কাছ ঘেঁষে বেরিয়ে গেছে। ১১৫ ফুট পরিধির ২০২০ কেডি৪ গ্রহাণুও পৃথিবীর কাছাকাছি চলে আসে। তবে তাদের সঙ্গে পৃথিবীর সংঘাত হয়নি।