দ্য ওয়াল ব্যুরো: এও এক হাতির কাহিনি। তবে দিন কয়েক আগে তোলপাড় হওয়া ঘটনার মতো দুঃখের নয়, রীতিমতো মজার। রাতারাতি কোটিপতি হতে চলেছে দুই হাতি, কারণ বিহারের এক ব্যক্তি তাঁর নিজের কোটি টাকার সম্পত্তি দিয়ে যেতে চান দুই হাতিকে। কারণ তিনি বিশ্বাস করেন, মানুষের চেয়ে হাতি অনেক বেশি বিশ্বস্ত। সেইসঙ্গে ওই দুই হাতি তাঁর সন্তান-সম বলেই মনে করেন তিনি।
গত কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই খবরের শিরোনামে এসেছে এই হাতি। কেরলে বারুদ-ঠাসা ফল খেয়ে ফেলে মর্মান্তিক ভাবে একটি হাতির মৃত্যুর পর থেকে খবর আসে আরও দুই হাতির মৃত্যুর। কিন্তু এবার সামনে এল বিহারের এই ঘটনা। আখতার ইমাম নামের এক ব্যক্তির হাতির প্রতি অগাধ ভালবাসার কথা।
যে ভাগ্যবান হাতি দু'টির কথা বলা হচ্ছে, তাদের নাম মোতি ও রানি। মোতির বয়স ১৫, রানির ২০। তারা জন্ম থেকেই আখতারের সঙ্গে রয়েছে। আখতার হাতিদের দেখাশোনা করার একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পরিচালনা করেন। তিনি বলেছেন, তাঁর মৃত্যুর পর যাতে হাতিদুটির কোনও অযত্ন না হয়, তাই তিনি তাঁর কয়েক কোটি টাকার জমি হাতিদের নামেই লিখে দিয়ে যাবেন।

আখতার আরও জানিয়েছেন, তিনি আজ বেঁচে আছেন এই পোষ্য হাতিদের জন্যই। একবার তাঁকে খুন করার চেষ্টা করা হয়েছিল। হাতে পিস্তল নিয়ে কয়েকজন লোক তাঁর ঘরে ঢোকার চেষ্টা করতেই হাতিরা তাঁকে সতর্ক করে দেয়। দুষ্কৃতীরা পালিয়েও যায়। আরও বহু বার বহু বিপদ থেকে এই হাতিরা পরোক্ষে প্রাণ বাঁচিয়েছে আখতারের। তাই তাঁর অবর্তমানে যাতে প্রিয়তম এই জীবদু'টির কোনও কষ্ট না হয়, সে জন্যই এই সম্পত্তি দানের সিদ্ধান্ত।
২৭ মে কেরলের মলপ্পুরম এলাকায় বারুদ-ঠাসা ফল খেয়ে ফেলায় একটি হাতির মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় তোলপাড় হয় গোটা দেশ। নির্বিচারে পশু হত্যার ঘটনায় মানুষের বিরুদ্ধেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল মানুষ। তার পরেই বিহারের এই আশ্চর্য ঘটনা যেন হাতিপ্রেমীদের ক্ষতে কিছুটা হলেও প্রলেপ দিল।

বছর পঞ্চাশের আখতারের কথায়, “আমি দীর্ঘদিন হাতিদের সংরক্ষণের কাজে যুক্ত ছিলাম। মানুষের থেকে অনেক বেশি বিশ্বস্ত এই বন্যপ্রাণীরা। ওরা আমার ছায়াসঙ্গী। আমি ওদের দেখভাল করি। কিন্তু আমার মৃত্যুর পরে কী হবে জানি না। তাই সেই ব্যবস্থা করে যেতে চাই।"
সেই কারণেই আখতার নিজের সমস্ত সম্পত্তি থেকে শুরু করে এমনকি বাড়ি-গাড়িও লিখে দিলেন তাঁর পোষ্য দুই হাতির নামে। তাঁর এই সিদ্ধান্তে স্বাভাবিক ভাবেই রেগে গেছেন পরিবারের সদস্যরা। যদিও অর্ধেক সম্পত্তি তিনি স্ত্রীর নামে লিখে বাকিটা দিয়েছেন হাতিদের, তবু তা নিয়ে অসন্তুষ্ট সকলে। তবে গত ১০ বছর ধরে পরিবারের থেকে আলাদা রয়েছেন আখতার। পারবারিক অশান্তির জেরে তাঁর স্ত্রী দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে চলে গেছেন। এখন এই হাতিরাই আখতারের সন্তান।

আখতার উইলে এ-ও লিখে দিয়েছেন, হাতিদের অবর্তমানে ওই বিপুল সম্পত্তি পাবে তাঁর সংস্থা, যারা হাতিদের দেখাশোনার কাজ করে। পরিবারের আর কেউ কোনও ভাগ পাবে না সম্পত্তির।