দ্য ওয়াল ব্যুরো : ১৯৮৪-র দাঙ্গা নিয়ে স্যাম পিত্রোদাজি যা বলেছেন, তা পুরোপুরি ‘আউট অব লাইন’। কংগ্রেস নেতা স্যাম পিত্রোদার মন্তব্য নিয়ে যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, তা এভাবেই চাপা দিতে চাইলেন দলের সভাপতি রাহুল গান্ধী। দিল্লিতে নির্বাচনের আগে ফের ’৮৪-র শিখ দাঙ্গার প্রসঙ্গ তুলেছে বিজেপি। সেই দাঙ্গায় সবচেয়ে যে জায়গাগুলি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তার অন্যতম দিল্লি। দাঙ্গার জন্য প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীকে দায়ী করেছে বিজেপি। তার জবাবে বৃহস্পতিবার ইন্ডিয়ান ওভারসিজ কংগ্রেসের নেতা স্যাম পিত্রোদা বলেন, হুয়া তো হুয়া। অর্থাৎ যা হওয়ার হয়েছে। কড়া ভাষায় ওই মন্তব্যের সমালোচনা করে বিজেপি। রাহুল স্পষ্ট করে দিয়েছেন, স্যাম পিত্রোদা যা বলেছেন, তা কোনওভাবেই কংগ্রেসের মত নয়।
রাহুল শুক্রবার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, স্যাম পিত্রোদা যা বলেছেন, তা আমাদের দলের অবস্থানের সম্পূর্ণ বিরোধী। আমরা তাঁর ওই মন্তব্য সমর্থন করি না। তাঁকে সেকথা জানিয়েও দেওয়া হয়েছে। তাঁকে অবশ্যই ওই মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে।
১৯৮৪-র দাঙ্গায় ৩ হাজার মানুষ মারা গিয়েছিলেন। ওই ঘটনাকে ‘ভয়ংকর ট্রাজেডি’ বলে উল্লেখ করেছেন রাহুল। স্যাম পিত্রোদার ওই মন্তব্যকে ‘শকিং’ বলেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, এই ঘটনায় কংগ্রেসের চরিত্র ও মানসিকতা প্রকাশ পায়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরসিমরত কাউর বাদল বলেন, আমি জানতে চাই, আগামীকাল যদি স্যাম পিত্রোদার পুরো পরিবার খুন হয়ে যায়, তিনি কি বলবেন, হুয়া তো হুয়া?
স্যাম পিত্রোদার প্রতি তাঁর পরামর্শ, আপনি বিধবাদের কলোনিতে যান। সেখানে দেখবেন, হাজার হাজার মহিলা ওই দাঙ্গায় স্বামীকে হারিয়েছেন। বিজেপির বক্তব্য, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর নির্দেশে গণহত্যা হয়েছিল।
বিজেপির অপর মন্ত্রী অরুণ জেটলির দাবি, পিত্রোদাকে কংগ্রেস থেকে তাড়িয়ে দেওয়া উচিত। তাঁর বক্তব্য, পিত্রোদার মন্তব্যে বোঝা যায়, কংগ্রেস ওই দাঙ্গার জন্য একেবারেই অনুতপ্ত নয়।
রাহুল ফেসবুকে লিখেছেন, ১৯৮৪-র দাঙ্গার জন্য যারা দায়ী, তাদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। ওই দাঙ্গার জন্য প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ক্ষমা চেয়েছেন, আমার মা সনিয়া গান্ধীও ক্ষমা চেয়েছেন। আমাদের অবস্থান খুবই স্পষ্ট। ওই ধরনের ঘটনা যেন আর কখনও না ঘটে। পিত্রোদা বলেছেন, তার মন্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপিত করা হয়েছে।