দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুরুতেই বেধেছিল বিপত্তি। দ্বিতীয়বার আগুন আতঙ্ক ছড়াল প্রয়াগরাজে। শনিবার সন্ধের মুখেই মেলাপ্রাঙ্গনের একটি শিবির থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের ক্যাম্পে। পুড়ে ছাই হয়ে যায় বেশ কয়েকটি তাঁবু। হতাহতের এখনও কোনও খবর নেই।
সেক্টর ১৩-র কল্পভাসি শিবির থেকে প্রথম ধোঁয়া বার হতে দেখে হই চই পড়ে যায়। নিমেষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আগুন। পাশের বেশ কয়েকটি তাঁবু পুড়তে শুরু করে। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় চারপাশ। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল ও অ্যাম্বুলেন্স। দমকলের সঙ্গে মেলা প্রশাসন, জাতীয় ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর যৌথ অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। কী ভাবে আগুন লাগল সেটা এখনও জানা সম্ভব হয়নি।
১৫ জানুয়ারি মেলা শুরুর দিনেই আগুন লাগে দিগম্বর ঘাটের কাছে, দিগম্বর আখড়ার শিবিরে। অল্প সময়ের মধ্যেই তা ছড়িয়ে পড়ে পাশের তাঁবুগুলিতে। খবর পেয়েই সেখানে হাজির হয় স্থানীয় পুলিশ। এসে পৌঁছয় দমকলবাহিনীও। দিগম্বর আখড়ায় রান্নার জন্য যে প্যান্ডেল বাঁধা হয়েছিল, সেখানে গ্যাস সিলিন্ডার ফেটেই আগুন ধরে যায় বলে জানান দমকলকর্মীরা।
মকরসংক্রান্তিতে ভোর ৪টে থেকে শুরু হয়েছে পুণ্যস্নান। মেলা চলবে ৪ মার্চ পর্যন্ত। শুরুর দিনই এক কোটি পুণ্যার্থীর ভিড় হয় এলাহাবাদে। আগামী জমায়েত হতে পারেন আরও ১২ কোটি মানুষ। প্রতি বারের মতো এ বারেও মেলার অন্যতম আকর্ষণ বিভিন্ন আখড়া। ১৩টি আখড়ার মধ্যে সাতটি শৈব এবং তিনটি করে বৈষ্ণব ও উদাসীন গোত্রের আখড়া বসেছে। তাঁবুশহরে ভিড় নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ৩০,০০০ পুলিশ। তা ছাড়াও রয়েছেন বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা। এত মানুষের ভিড়ে যাতে শিশুরা না হারিয়ে যায়, সেজন্য রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন ট্যাগ ব্যবহার করছে প্রশাসন।মূল অংশে ভিড় নিয়ন্ত্রণের এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও আঁটোসাঁটো করতে শহর লাগোয়া ২০টি গুরুত্বপূর্ণ পার্কিং এলাকাকে স্যাটেলাইট টাউনে বদলে দেওয়া হয়েছে। এত নিরাপত্তা সত্ত্বেও বার বার মেলায় বিপর্যয় কী ভাবে হচ্ছে সেই নিয়ে যথেষ্ট চিন্তায় পড়ে গেছে প্রশাসন।