দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাম্বা গেটওয়ে অবধি কোনওক্রমে পৌঁছে গেছিলেন দুই মহিলা সংবাদিক। পাহাড়চূড়োয় ওঠার সময়েই শুরু হল বিপত্তি। ধূমকেতুর মতো আচমকাই রাস্তা আটকে দাঁড়ালেন এক দল বিক্ষোভকারী। মুখে ‘স্বামীয়ে শরণম আইয়াপ্পা’ স্লোগান। গতকাল ছিলেন দুই, আজ বৃহস্পতিবার আরও দুই মহিলা সাংবাদিকের পথ আটকালেন 'শবরীমালা বাঁচাও কমিটি' আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত বিক্ষোভকারীরা।
পুলিশ জানিয়েছে, 'নিউ ইয়র্ক টাইমস'-এর ওই দুই মহিলা সাংবাদিকের একজনের নাম সুহাসিনি রাজ। তিনি দিল্লির বাসিন্দা। তাঁপ সঙ্গে ছিলেন তাঁরই সহকর্মী। বুধবারে কেরলের এক সাংবাদিক লিবি সিএস ও অন্ধ্রপ্রদেশের বাসিন্দা মাধবীকে হেনস্থার ঘটনার পরেও তাঁরা বদ্ধপরিকর ছিলেন আজ সকালে মন্দির চত্বরে পৌঁছবেনই। প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন সেই রকমই। পাম্বা অবধি এসে পাহাড়ে চড়তে শুরুও করেছিলেন দু'জনে। সুহাসিনি জানিয়েছেন, শুধু রাস্তা আটকানোই নয় তাঁদের ফিরে যেতে বলে ইট-পাথরও ছুঁড়তে শুরু করেন বিক্ষোভকারীরা। শেষে পুলিশি প্রহরায় তাঁদের পাহাড় থেকে নামিয়ে আনা হয়।
শবরীমালা বাঁচাও স্লোগান তুলে আজ গোটা রাজ্যেই ১২ ঘণ্টার বনধ ডেকেছে সংগঠনের সদস্যেরা। সান্নিধানাম, পাম্বা, নীলাক্কাল ও এলাভাঙ্গালে জারি হয়েছে ১৪৪ ধারা। মন্দিরের সামনে সকাল থেকেই ঘাঁটি গেড়ে বসে রয়েছেন আন্দোলনকারীরা। গতকালের ধুন্ধুমারের পর আজ নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও আঁটোসাঁটো করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে রাস্তা ও মন্দির চত্বরে।
এক প্রত্যক্ষদর্শীর কথায়, "নীলাক্কাল থেকে শবরীমালা পর্যন্ত সব রাস্তাতেই বসে স্লোগান দিচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। মহিলা ভক্ত দেখলেই ফিরে যেতে বলা হচ্ছে। ওই দুই মহিলারও পথ আটকানো হয়। বিক্ষোভের মুখে তাঁরা ফিরে যেতে বাধ্য হন।"
বুধবার বিকেল ৫টায় মন্দির খোলার পর ৫০ বছরের বেশি বয়সী মহিলারা অবাধে ঢুকতে পারেন। কিন্তু, পথ আটকানো হয় ১০-৫০ বছর বয়সীদের। পুলিশ বাধা দিলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে তাঁদের ধুন্ধুমার বেঁধে যায়। রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা মন্দির চত্বর।
পুলিশ জানিয়েছে, সুহাসিনি ও তাঁর সহকর্মীকে নিরাপদে ফেরত পাঠানো গেছে। ঠিক সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে না পৌঁছলে বড় কোনও বিপদ হতে পারত।