
শেষ আপডেট: 17 October 2018 18:30
এখানে কলকাতার থিম পুজোর আঁচ লাগেনি এখানে মায়ের গায়ে। সাবেকি প্রতিমা। কুমোরটুলি থেকে উড়িয়ে আনা হয় ঠাকুর। পুরোহিতও আসেন কলকাতা থেকেই। সুমিত মুখোপাধ্যায়। প্রতি বছরই নির্দিষ্ট সময় তাঁকে উড়িয়ে আনেন পুজো কমিটির সদস্যেরা। রীতি মেনে নিষ্ঠাসহকারে তাঁর মন্ত্রচ্চারণের ভরে ওঠে প্রবাসীদের মন। ঢাকের বোলে বেজে ওঠে আগমনীর সুর।
https://www.youtube.com/watch?v=mHhzdXG6KLg&feature=youtu.be
বার্লিন দুর্গা পুজো কমিটির এ বারের তোড়জোড় কিঞ্চিৎ বেশি। ৪৩ বছরে পা দিয়েছে সাবেকি পুজো। মায়ের বেদী সাজানো থেকে পুজোর জোগাড়-যন্ত্র সবই নিজের হাতেই সামলান কমিটির সদস্যেরা। পুজোর কাজে চন্দনবাটা থেকে মালাগাঁথার কাজে নিপুণ ভাবে হাত লাগান জার্মান বন্ধুরা।
ষষ্ঠীর বোধন থেকে সপ্তমী, অষ্টমীর পূজার্চনা, কলকাতার সঙ্গে সময়ে তাল দিয়ে ১০৮ বাতি জ্বালিয়ে হয় সন্ধিপুজোও। পুজোর পাঁচদিন আমিষের বালাই নেই। ভোগের থালায় শোভা পায় নানা বাঙালি নিরামিষ পদ। শেষ পাতে অবশ্যই মিষ্টি। প্রতিদিনই পুজো শেষে প্রসাদ ও ভোগ বিতরণ হয় দর্শনার্থীদের মধ্যে। ঘরোয়া রান্নাতেই মুখে তৃপ্তির হাসি ফুটে ওঠে সবার। খিচুড়ি থেকে পোলাও, সঙ্গে নিরামিষ নানা সব্জির পদ, রান্নার সঙ্গে আবেগের মিশেলে খাবারের স্বাদে মায়ের হাতের স্পর্শ। দুর্গাপুজো মানেই বাঙালির পুজো, তাই পেটপুজোরও একটা আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। সেখানে শেষ পাতে বাঙালি মিষ্টি না হলে ভোজনরসিকদের রসনা শান্ত হয় না। কলকাতার ময়রা না হোক, বার্লিনেই বঙ্গরমনীরা নিজের হাতে বানিয়ে নেন মিষ্টির নানা আইটেম।
দশমীতে সকালে পুজোর পর শুরু হয়ে যায় বিসর্জনপর্ব। মাকে বরণ করে সিঁদুরখেলায় মেতে ওঠেন বার্লিনের ভারতীয় মহিলারা। মিষ্টিমুখের শেষে কোলাকুলি পর্ব। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠাও একটা বিশেষ মাত্রা পায় বার্লিনের পুজোয়। ধ্রুপদ সঙ্গীতে তাল মেলান ভারতীয় থেকে জার্মানরাও।
প্যান্ডেল, ভিড়, নতুন জামা, কাশফুল, পুজোবার্ষিকী, বিজয়া দশমীর ঘুগনি, এগরোল, ঢাকের আওয়াজ, কুচো নিমকি, নারকেল নাড়ু আর কোলাকুলি... দুর্গাপুজো শুনলেই অনেক রকম ছবি ভেসে ওঠে। পুজোর সাজও একটা ব্যাপার। কলকাতা হোক বা বার্লিন, বঙ্গললনাদের পুজোর সাজে কোনও কমতি থাকে না। অষ্টমীর অঞ্জলির দিন ঠিক হাতে এসে যায় লালপাড় সাদা শাড়ি। বন্ধুবান্ধব হোক বা আত্মীয়স্বজন, নিজের দেশ থেকে আনানো পুজোর গন্ধ মাখা নতুন শাড়ির সঙ্গে মানানসই গয়না এবং চুলের খোঁপায় চূড়ো করে বাঁধা ফুলের মালায় প্রবাসী রমনী হয়ে ওঠেন মোহময়ী।