দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত ফেব্রুয়ারি মাসে দিল্লিতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়। ৫০ জনের বেশি মারা যান। আহত হন আরও অনেকে। বিপুল সম্পত্তির ক্ষতি হয়। বুধবার তার ১৭ হাজার ৫০০ পাতার চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। তাতে নাম আছে ১৫ জনের। তাঁরা সকলেই নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে শামিল হয়েছিলেন। কিন্তু ওই আইনের পক্ষে যাঁরা মিটিং-মিছিল করেছিলেন, তাঁদের কারও নাম চার্জশিটে নেই।
চার্জশিটে ২৬০০ পাতা জুড়ে অভিযুক্তদের অপরাধের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। তার সঙ্গে রয়েছে কয়েক হাজার পাতার অ্যানেক্সচার। কয়েকটি ক্ষেত্রে সন্ত্রাসদমন আইনে চার্জ আনা হয়েছে।
চার্জশিটে অভিযুক্তদের মধ্যে আছেন সাসপেন্ডেড আপ কাউন্সিলার তাহির হুসেন। পুলিশ জানিয়েছে, এখনও তদন্ত চলছে। পরে একটি সাপ্লিমেনটারি চার্জশিট পেশ করা হবে। তাতে আরও কয়েকজন অভিযুক্তের নাম থাকবে।
পুলিশ এদিন আদালত বলে, "চার্জশিটে যে ষড়যন্ত্রকারীদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের সঙ্গে দাঙ্গাবাজদের সরাসরি সম্পর্ক ছিল। সিলামপুর ও জাফরাবাদে দাঙ্গা করার জন্য দু'টি হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ তৈরি হয়েছিল। দাঙ্গায় ওই দু'টি এলাকা সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।"
পরে বলা হয়েছে, ষড়যন্ত্রকারীরা দাঙ্গার ছক কষেছিল। এলাকার মাঝারি স্তরের নেতারা সেই ছক কার্যকর করার দায়িত্বে ছিল। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল দাঙ্গাবাজদের। পুলিশের দাবি, ছাত্ররা ২০ কিলোমিটার হেঁটে দাঙ্গায় অংশহগ্রহণ করতে এসেছিল।
পুলিশের দাবি, নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে যে বিক্ষোভ হচ্ছিল, তা প্রথম থেকেই ছিল অগণতান্ত্রিক চরিত্রের। বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্য ছিল হিংসায় উস্কানি দেওয়া। পুলিশের মতে, 'চাক্কা জ্যাম' বা রাস্তা অবরোধ জাতীয় কার্যকলাপ অগণতান্ত্রিক। এর একমাত্র উদ্দেশ্য হল হিংসায় উস্কানি দেওয়া।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যখন দিল্লিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন, তখনই শহরে দাঙ্গা চলছিল। দাঙ্গায় দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিয়েও অনেকে সমালোচনা করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, পুলিশ বেছে বেছে একটি পক্ষের লোকজনকে ধরেছে। দাঙ্গার সময় পুলিশকে সক্রিয়ভাবে একটি দলকে সাহায্য করতে দেখা গিয়েছে।
চার্জশিটে কয়েকজন বামপন্থী ছাত্রের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছিল, বিজেপি নেতা কপিল মিশ্র পুলিশকে হুমকি দিয়ে বলছেন, অবিলম্বে বিক্ষোভকারীদের হটিয়ে না দিলে তাঁরা পথে নামবেন। কপিল মিশ্রের নাম চার্জশিটে নেই।