দ্য ওয়াল ব্যুরো : ভারতে যতগুলি জেলা আচ্ছে, তার এক চতুর্থাংশই হয়ে উঠেছে করোনাভাইরাসের হটস্পট। এছাড়া আরও ২০৭ টি জেলা হটস্পট হয়ে ওঠার সম্ভাবনা আছে। বুধবার কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যগুলিকে জানিয়েছে, হটস্পট থেকে যাতে বাইরে রোগ না ছড়ায়, তার ব্যবস্থা করতে হবে। হটস্পটের মধ্যে কাজ করবে স্পেশাল টিম। তারা বাড়ি বাড়ি ঘুরে সমীক্ষা করবে। তারা শুধু কোভিড ১৯ রোগে আক্রান্তদের চিহ্নিত করবে না। যাঁরা ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ইলনেস (সারি)-তে আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁদেরও খুঁজে বার করবে।
এদিন স্বাস্থ্যমন্ত্রক থেকে নির্দিষ্ট করে জানানো হয়েছে, হট জোনগুলিতে বিধিনিষেধ থাকবে আগামী ২৮ দিন পর্যন্ত। যতদিন না সেখানে করোনা আক্রান্তরা সুস্থ হয়ে উঠছেন এবং নতুন করে সংক্রমণ বন্ধ হচ্ছে, ততদিন সেখানে বিধিনিষেধ মেনে চলতেই হবে। গ্রামাঞ্চলে হটস্পটের পরিধি হবে তিন কিলোমিটার। তার বাইরে সাত কিলোমিটার পরিধির একটি অঞ্চলকে বলা হবে বাফার জোন বা অরেঞ্জ জোন।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানিয়েছে, রাজ্য ও জেলা প্রশাসনগুলিই চিহ্নিত করবে কোন এলাকাগুলি করোনার এপিসেন্টার হয়ে উঠেছে। যেখানে বেশি সংখ্যক মানুষ করোনার সংস্পর্শে এসেছেন এবং অনেকে আক্রান্ত হয়েছেন, সেই জায়গাগুলিই এপিসেন্টার হিসাবে ধরে নেওয়া হবে। তবে শহরে এইভাবে এপিসেন্টার খুঁজে বার করা মুশকিল।
স্বাস্থ্যমন্ত্রকের উচ্চপদস্থ অফিসার লব আগরওয়াল বলেন, "কোন এলাকাগুলি হটস্পট তা সবচেয়ে ভাল জানে রাজ্য ও জেলা প্রশাসন। কেন্দ্রীয় সরকার হটস্পট চিহ্নিত করতে পারে না।"
লব আগরওয়াল আরও জানিয়েছেন, প্রতিটি জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য তিন রকমের স্বাস্থ্যকেন্দ্র রেডি করে রাখতে বলা হয়েছে—কোভিড কেয়ার, কোভিড হেলথকেয়ার এবং কোভিড হাসপাতাল। কারও শরীরে ভাইরাসের সংক্রমণ হলেও উপসর্গ মৃদু হলে তাঁকে কোভিড কেয়ারে রাখা হবে। কারও উপসর্গ মাঝারি হলে এবং অক্সিজেনের সাপোর্ট প্রয়োজন হলে তাঁকে কোভিড হেলথকেয়ারে রাখা হবে। আর কারও শারীরিক অবস্থা সংকটজনক হলে তাঁকে কোভিড হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা করা হবে।
ক্যাবিনেট সচিব এদিন সব রাজ্যকে এও জানিয়ে দিয়েছেন যে, করোনা আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা প্রোটোকল গোটা দেশে অভিন্ন হবে। কারও যদি এ ব্যাপারে কোনও প্রশ্ন থাকে তাহলে এইমসের কলসেন্টারে ফোন করে জেনে নিতে পারেন।