
শেষ আপডেট: 11 August 2023 05:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের ছাত্রের রহস্যমৃত্যু (17-year-old student) রাজস্থানের কোটায়। এই নিয়ে গত এক সপ্তাহে তিন ছাত্রের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটল কোটায়। শেষতম এই মৃত্যুতে যদিও কোনও সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়নি, কিন্তু প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষার প্রস্তুতির চাপ সহ্য করতে না পেরেই বৃহস্পতিবার আত্মঘাতী (Suicide in Kota) হয়েছে সে।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ছাত্রের নাম মণীশ প্রজাপত, বয়স ১৭ বছর। উত্তরপ্রদেশের আজমগড়ের বাসিন্দা ছিল সে। মাস ছয়েক আগে কোটার একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়েছিল। পড়াশোনা করছিল জয়েন্ট দেবে বলে। ঠিক কী কারণে ওই ছাত্রের মৃত্যু হল, তা বোঝা না গেলেও, আত্মহত্যা বলেই অনুমান করছেন সকলে।
এই বছরে এই নিয়ে কোটায় মোট ২১ জন ছাত্রের আত্মহত্যার অভিযোগ উঠল। তবে বছর বছরই কোটায় এই মৃত্যু মিছিল লেগে থাকে। গত বছর এই সংখ্যাটা ছিল ১৫। কোটা যেন দিনেদিনে মা-বাবা, পড়ুয়াদের কাছে বিভীষিকা হয়ে উঠছে। ব্যর্থতা, আত্মহত্যার আঁতুড়ঘর হয়ে হয়ে উঠছে কোটা।
ডাক্তারি, ইঞ্জিনিয়ারিং-- এসব শাখায় বড় বড় প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার জন্য এই কোটায় প্রস্তুতি নিতে আসে হাজার হাজার পড়ুয়া। গত কয়েক দশক ধরেই সারা দেশে বেশ নামও করেছে কোটার কোচিং সেন্টারগুলি।
দিন সাতেক আগেই সেখানে ১৮ বছর বয়সি এই ছাত্র, উত্তরপ্রদেশের রামপুরের বাসিন্দা মঞ্জতের জীবন শেষ হয়ে গেছে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার লড়াইয়ে। সে-ও বেছে নেয় আত্মহত্যার পথ (Kota student in suicide)। সুইসাইড নোট (Suicide Note) মিলেছিল, মঞ্জতের ঘর থেকে। তাতে লেখা, ‘সরি’। সেইসঙ্গে বাবাকে জন্মদিনে শুভেচ্ছাও জানায় মঞ্জত। ছোট থেকেই ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন ছিল মঞ্জতের। বোর্ড পরীক্ষা পাশ করার পরই তাই প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পাড়ি দেয় রাজস্থানের কোটায়। হাসিমুখে মা-বাবার সঙ্গে এসেছিল।
কিন্তু কিছুদিনের মধ্যে সেই হাসি বদলে যায় অবসাদে। বাড়ি থেকে দূরে থাকার চিন্তা, সেইসঙ্গে পড়াশোনার অত্যধিক চাপ মাথায় জমতে থাকে। বন্ধুদের মঞ্জত বলেছিল, এবার আত্মহত্যা করার লাইনে সে আছে। বন্ধুরা সেটা মজার ছলেই নিয়েছিল। মঞ্জত বন্ধুদের বলেছিল, ‘দেখিস, এরপর আমার নাম আসবে…’। বন্ধুরা ভেবেছিল ইয়ার্কি মারছে, তাই পাত্তা দেয়নি মঞ্জতের কথায়।
কিন্তু গত বৃহস্পতিবার সেই মজাই সত্যি হয়ে যায়। বন্ধুরা দেখে, ঘরের সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলছে মঞ্জত। শরীরে প্রাণ নেই। হাসি-খুশি বন্ধুটা এভাবে চলে যাবে, তা এখনও বিশ্বাস করতে পারছে না সহপাঠীরা।
ঠিক এক সপ্তাহের মাথায়, গতকাল, আরও একটা বৃহস্পতিবারে চলে গেল ১৭ বছরের মণীশের প্রাণ।
‘কোটা ফ্যাক্টরি’! ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি নাকি শূন্যতার গহ্বর? ‘ব্ল্যাক হোল’ থেকে ফেরে কতজন?