দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোভিডের থাবায় জেরবার দেশ। কিন্তু বিমান চলাচল জারি রয়েছে। আকাশপথে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দিচ্ছেন পাইলটরা। এবার তাঁদেরকেও 'কোভিড যোদ্ধা'র মর্যাদা দেওয়ার দাবি উঠল।
কোভিড পর্বের সূচনা থেকে এখনও পর্যন্ত ভাইরাসে মৃত্যু হয়েছে ১৭ জন বিমান চালকের। এদিন ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান পাইলটসের তরফে বম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন কর্তৃপক্ষ। দাবি, প্রথম সারির কোভিড যোদ্ধাদর স্বীকৃতি দিতে হবে দেশের বিমান চালকদের। চিকিৎসক, স্বাস্থ্য কর্মীরা কোভিড সংক্রান্ত যে সুযোগ সুবিধা পান, সেগুলি দিতে হবে তাঁদেরও।
পরিসংখ্যান বলছে, কোভিডের বলি ১৭ জন পাইলটের মধ্যে শুধুমাত্র চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত সময়েই মৃত্যু হয়েছে ১৩ জনের। অর্থাৎ করোনার দ্বিতীয় ঢেউই বেশি ভয়াবহ আর প্রাণঘাতী হয়ে দেখা দিয়েছে।
কোভিড যোদ্ধা তথা ফ্রন্টলাইন ওয়ার্কারের ক্যাটেগরিতে 'এয়ার ট্রান্সপোর্টেশান ওয়ার্কার'-এর স্বীকৃতি চেয়েছেন পাইলটরা। এই নামের কোনও ক্যাটেগরি এখনও পর্যন্ত তৈরি হয়নি। নতুন করে তা বানানোর দাবি উঠেছে।
একটি বিবৃতিতে পাইলটদের ফেডারেশন জানিয়েছে, "করোনাতে কোনও পাইলট মারা গেলে তাঁদের সাহায্যের কোনও নিয়ম এখনও পর্যন্ত আনা হয়নি। কোনও ইনসিওরেন্স পলিসি বা অনুরূপ স্কিমও নেই। পাইলটরা দেশের জন্য কাজ করছেন নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে।"
ফেডারেশনে মোট ৫ হাজার ৬১৯ জন সদস্য রয়েছেন। তাঁরা এয়ার ইন্ডিয়া, স্পাইস জেট, ভিস্তারা, গো এয়ার, ইন্ডিগো, রিলায়েন্স কমার্শিয়াল, সৌদিয়া প্রভৃতি বিভিন্ন বিমান সংস্থার সঙ্গে যুক্ত।
পরিসংখ্যান ঘাঁটলে দেখা যাচ্ছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত শুধুমাত্র এয়ার ইন্ডিয়াতেই করোনা আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় হাজার দুয়েক কর্মী। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৬০০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। সরকারের কাছ থেকে পাইলটরা এখন তাই নিরাপত্তা চাইছেন। তাঁরা এয়ার ইনসিওরেন্স দাবি করেছেন।
এছাড়া ভ্যাকসিন দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার, কোভিডে মৃত্যুতে আজীবনের আর্থিক সুরক্ষা প্রভৃতি দাবিও করা হয়েছে। এই দাবি বাস্তবায়িত হয় কিনা সেটাই এখন দেখার।