এক হাতে আয়াপ্পার ছবি, অন্য হাতে বিজেপির ঝান্ডা, শবরীমালায় মহিলা ভক্তদের পথ রুখছেন মহিলারাই
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে তো কি হয়েছে! শবরীমালায় কিছুতেই মহিলাদের প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না। ঢুকতে দেওয়া যাবে না আয়াপ্পার গর্ভগৃহে। এই মর্মে গত সোমবার থেকেই পথে ঘাটে, যানবাহনে মহিলাদের রাস্তা আটকানো হচ্ছে। আন্দোলনকে আরও কয়েক
শেষ আপডেট: 16 October 2018 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে তো কি হয়েছে! শবরীমালায় কিছুতেই মহিলাদের প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না। ঢুকতে দেওয়া যাবে না আয়াপ্পার গর্ভগৃহে। এই মর্মে গত সোমবার থেকেই পথে ঘাটে, যানবাহনে মহিলাদের রাস্তা আটকানো হচ্ছে। আন্দোলনকে আরও কয়েক পা এগিয়ে দিতে বিক্ষোভকারীরা এগিয়ে দিয়েছেন মহিলাদেরই। দেশের শীর্ষ আদালতের রায়ে আজ, বুধবার সব বয়সের মহিলাদের জন্য খুলছে শবরীমালার দরজা। সকাল থেকেই তাই বিক্ষোভ-আন্দোলনে উত্তাল কেরল।
প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন হাজার হাজার ভক্ত। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে এক তৃতীয়াংশেরও বেশি মহিলা। হাতে আয়াপ্পার ছবি ও বিজেপির পতাকা নিয়ে 'শবরীমালা বাঁচাও' স্লোগানে বিক্ষোভের ঝড় বইছে রাজ্য জুড়ে। মন্দিরের কাছাকাছি মহিলা দেখলেই রাস্তা আটকানো হচ্ছে।
পাম্বা থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরত্বে শবরীমালা মন্দিরে ঢোকার প্রায় ২০ কিলোমিটার আগে পড়ে নীলাক্কাল বেসক্যাম্প। মঙ্গলবার সন্ধে থেকেই সেখানে ঘাঁটি গেড়েছেন বিক্ষোভকারীরা। অভিযোগ, হাতে আয়াপ্পার ছবি নিয়ে মহিলারাই তল্লাশি চালাচ্ছেন বাস, অটো, ট্যাক্সিতে। মহিলা দেখলেই তাদের গাড়ি থেকে নামিয়ে ফিরে যেতে বলা হচ্ছে। স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল জানিয়েছে, সরকারি বাসগুলিতেও কড়া নজরদারি চালাচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। তাঁদের দাবি কালো পোশাক পরে বেসক্যাম্পে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন কয়েক জন কলেজ পড়ুয়া। তাঁদের রাস্তা আটকানো হয়েছে। ঢুকতে দেওয়া হয়নি মহিলা সাংবাদিকদেরও।

মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে আজ থেকে তিন মাসব্যাপী ‘মকরাভিলাক্কু উৎসব’ শুরু হবে শবরীমালায়। তাই এ দিনই মহিলাদের মন্দিরে ঢোকার অনুমত দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের রায়ে বলা হয়েছিল, যে কোনও বয়সের মহিলা অর্থাৎ ঋতুমতী মহিলাদেরও মন্দিরে প্রবেশে আর বাধা নেই। এই রায় শোনার পরই বিক্ষোভকারীদের হুঁশিয়ারি ছিল, মহিলাদের রুখতে দরকার হলে মন্দিরের গর্ভগৃহে ঢোকার রাস্তায় শুয়ে পড়বেন তাঁরা। আজ সকাল থেকেই আন্দোলনে শরিক মহিলা ও পুরুষেরা রাস্তায় বসে পড়েছেন মন্দিরের প্রবেশদ্বার পাহারা দিতে।
যদিও কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন বলেছিলেন, শবরীমালায় ঢোকার পথে মহিলা ভক্তদের কেউ বাধা দিতে পারবে না। রাজ্য সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে এই ভাবে কিছুতেই হাতে তুলে নিতে দেওয়া যাবে না আমজনতাকে। গোটা মন্দির চত্বর ও মন্দিরে ওঠার রাস্তায় পুলিশি প্রহরা থাকবে। আদতে তার কিছুই এ দিন কার্যকরী হয়নি।