
শেষ আপডেট: 16 October 2018 18:30
প্যান্ডেলের ভিতরে প্রতিবারের মতো এ বারেও শোভা বাড়াচ্ছে বিশাল ঝাড়বাতি। মন্দিরে প্রবেশের ঠিক ডান দিকে একটেরে জমিতেই বীরাষ্টমীর আয়োজন। নানা সমিতির কচিকাঁচারা জিমন্যাস্টিক, লাঠি খেলা-সহ শারীরিক কসরত দেখাচ্ছে। সেই নেতাজীর সময় থেকেই এই বীরাষ্টমী উৎসব যা বাগবাজার সর্বজনীনের অন্যতম মূল আকর্ষণ। সলিসিটর দুর্গাচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুরোধে তখন নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু এই পুজোর সভাপতি। তার আগে অবশ্য নানা জায়গা ঘুরে পুজো থিতু হয়েছে এই দুর্গানগর মাঠে।
সেই সময় দেশজুড়ে বিদেশী দ্রব্য বর্জনের পালা চলছে। উত্তর কলকাতার আনাচ কানাচেও তখন স্বদেশী বিপ্লবের ছোঁয়া। সব বাঙালিকে এক ছাদের তলায় আনতেই নেতাজী চালু করলেন 'বীরাষ্টমী উৎসব'। পুজোর সঙ্গে শুরু হল প্রদর্শনী ও শারীরিক কসরত। প্রদর্শনীতে স্বদেশী শিল্পের জোয়ার। দেশজ দ্রব্যের মেলা বসে গেল প্রদর্শনীর মাঠ জুড়ে। পাশাপাশি, বীরাষ্টমীতে বিপ্লবীদের লাঠি খেলা, জিমন্যাস্টিক-সহ নানা শারীরিক শক্তি প্রদর্শনের জোয়ারে ভেসে গেল বাঙালি। সেই ধারা এখনও রয়েছে পুজোতে। অষ্টমীর সকালের ভিড়টা তাই অন্যান্য দিনের তুলনায় কিঞ্চিৎ বেশি।
পুজো মণ্ডপকে ঘিরেই বসে বিরাট মেলা। দু'পাশে সারি সারি স্টল। অষ্টমীর নিরামিষ খাওয়ার রীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দিব্যি ফিশ ফ্রাই-কবিরাজি সাঁটাচ্ছে ভোজনরসিক বাঙালি। নিমেষের মধ্যে ঝুড়ি ঝুড়ি কবিরাজি শেষও হয়ে যাচ্ছে। আবার একঝুড়ি গরম খাবারের উপর প্রায় ঝাঁপিয়ে পড়ে কচাকচ মুরগী-মাটনের সদ্ব্যবহার হচ্ছে। সঙ্গে দেদাড় কোল্ডড্রিঙ্কস আর আইশ ক্রিম। প্রতিমা দর্শনের সঙ্গে পেট পুজোর আয়োজনও বিরাট।
পুজো প্যান্ডেলে চোখ টানে বঙ্গললনাদের সাজসজ্জা। লালপাড় সাদা শাড়ির ভিড় একটু কম। পরিবর্তে লম্বা ঝুল কুর্তি, পালাজোর ভিড় বেশি। সঙ্গে জাঙ্ক জুয়েলারি। বাহারি লিনেন এবং শিফনও রয়েছে। হালফিলের সালোয়ার চোখে পড়ে দু'একটা। এ বারের পুজোর সাজে শাড়ির সঙ্গে দক্ষিণী স্টাইলে অনেকেরই মাথায় চূড়ো করা খোঁপায় ফুলের মালা। সঙ্গে ভারী গয়না। হাঁটু ঝুল ডিজাইনার ফ্রকেও আজকালকার গৃহবধূরা বেশ সাহসী।
বেলা বাড়ছে, অষ্টমীর ভিড় কমছে। পরের ভিড়টা হবে সন্ধের। পুজো কমিটির সদস্যেরা জানালেন, রাত আটটার পর থেকে ভিড়টা বেশ বাড়ে। আর এ বার যেহেতু শতবর্ষের পুজো তাই দূর দূর থেকে অনেকেই ভিড় জমাচ্ছেন প্যান্ডেলে। আর তো মাত্র দু'টো দিন। তারপরই বিসর্জনের পালা। শরতের মেঘেরা তল্পিতল্পা গুটিয়ে আবার ফিরে যাবে যে যার দেশে। আগমনীর গন্ধ মিলিয়ে ফাঁকা মাঠে নেমে আসবে শূন্যতা। তাই হোক না একটু সাজ বেশিই! দেশী হোক বা পশ্চিমী, মানানসই হোক বা বেমানান পরোয়া নেই। সঙ্গে চলুক পেটপুজো। পুষ্টি আর ডায়েটকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে 'বলো দুগ্গা মা-ই কী! জয়!'