দুর্ঘটনা কেড়েছে স্বামীকে, সংরক্ষিত শুক্রাণু থেকে যমজ সন্তানের মা হলেন তরুণী
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সব ভালোবাসা পরিণতি পায় না। কিন্তু, কান্নুরের শিলনার লড়াইটা ছিল অন্য রকম। স্বামীর মৃত্যু হয়েছে এক বছর আগে। সেই স্বামীরই সংরক্ষিত শুক্রাণু থেকে যমজ কন্যা সন্তানের জন্ম দিলেন তরুণী।
২০০৬ সালে কান্নুরের বাসিন্দা কেভি সুধাকরণে
শেষ আপডেট: 16 September 2018 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সব ভালোবাসা পরিণতি পায় না। কিন্তু, কান্নুরের শিলনার লড়াইটা ছিল অন্য রকম। স্বামীর মৃত্যু হয়েছে এক বছর আগে। সেই স্বামীরই সংরক্ষিত শুক্রাণু থেকে যমজ কন্যা সন্তানের জন্ম দিলেন তরুণী।
২০০৬ সালে কান্নুরের বাসিন্দা কেভি সুধাকরণের সঙ্গে ভালোবাসা করেই বিয়ে শিলনার। সুধাকরণ নানা পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি ছিলেন একাধারে সাংবাদিক, কবি এবং অধ্যাপক। শিলনার সাহিত্য চর্চার সঙ্গে যুক্ত। ২০১৭ সালের ১৫ অগস্ট একটি পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় সুধাকরণের।
শিলনা জানিয়েছেন, ২০১৬ সাল থেকে আইভিএফ পদ্ধতিতে সন্তানের জন্ম দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন তাঁরা। কিন্তু দু’বার গর্ভপাত হয়ে যায় তাঁর। আইভিএফ-এর চিকিৎসা চলাকালীনই মৃত্যু হয় সুধাকরণের। একদিকে স্বামীকে হারানোর যন্ত্রণা, অন্যদিকে মা না হতে পারার কষ্ট—সব মিলিয়ে অন্ধকার নেমে আসে শিলনার জীবনে। তরুণী জানিয়েছিলেন, স্বামীর মৃত্যুর পর অনিদ্রা গ্রাস করেছিল তাঁকে। দিশাহারা হলেও হার মানেনি তরুণী। সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখাতে মরিয়া ছিলেন শিলনা।

ফের আইভিএফ-এর চিকিৎসা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। কোঝিকোড়ের এআরএমসি ক্লিনিকে ডঃ কুঞ্জিরমইদিন এবং ডঃ শ্রিজার অধীনে ফের চিকিৎসা শুরু হয় শিলনার। চলতি বছর ১৩ জানুয়ারি আইভিএফ-এর অন্তিম ধাপ শেষ করেন চিকিৎসকরা। তার ১৫ দিনের মধ্যেই গর্ভবতী হন শিলনা। ১৩ সেপ্টেম্বর দু’টি ফুটফুটে কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছেন তিনি।
শিলনার কথায়, লড়াইটা মোটেও সহজ ছিল না। কিন্তু, স্বামীর প্রতি ভালবাসাই তাঁকে এই কাজে সাহস ও শক্তি যুগিয়েছে। গোটা পরিবারও ছিল তাঁর পাশে। স্বামী নেই। এ বার যমজ সন্তানের মুখ চেয়েই জীবনের বাকি দিনগুলি সুখে কাটাতে চান তরুণী।