দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাঘকে ‘নিষ্ঠুর ও রক্তলোভী’ বলতে ঘোর আপত্তি ছিল জিম করবেটের। বলেছিলেন, ‘‘বাঘের জন্য জনমত গড়ে না-উঠলে বাঘ লোপ পাবেই। শ্রেষ্ঠতম প্রাণীর বিলোপে দরিদ্রতর হবে ভারত।’’ চোরাশিকারিদের হাতে নির্বিচারে নিধন হোক বা নিছক ভয় ও আতঙ্কের কারণে ২০০৮ সাল থেকে গোটা দেশ জুড়ে বাঘের হত্যালীলা চলেছে। পরিসংখ্যান বলছে সেই সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছে ৪২৯-এ। পরিবেশমন্ত্রকের অধীনে ওয়াইল্ড লাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ব্যুরো (WCCB)-র তথ্য তেমনটাই জানাচ্ছে।
বাঘ হত্যায় রীতিমতো উদ্বিগ্ন পরিবেশবিদ ও পরিবেশকর্মীরা। সাম্প্রতিকালে মহারাষ্ট্রে 'মানুষখেকো' তকমা পাওয়া বাঘিনী অবনী হত্যাকাণ্ড ও উত্তরপ্রদেশের দুদুয়া ব্যাঘ্র প্রকল্পে গ্রামবাসীদের হাতে বাঘের মৃত্যুর ঘটনার পর আরও নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। WCCB-এর রিপোর্ট বলছে, মধ্যপ্রদেশে এ যাবৎ মোট ৭১টি বাঘের মৃত্যুর খবর মিলেছে। বেশিরভাগেরই মৃত্যু হয়েছে গ্রামবাসীদের হাতে অথবা চোরাশিকারিদের উৎপাতে। সবচেয়ে বেশি বাঘ হত্যার ঘটনা ঘটেছে ২০১১ সালে। দেশের নানা প্রান্তে সাকুল্যে ৮০টি বাঘের মৃত্যুর খবর মিলেছে, ২০১৫ সালে সেই সংখ্যাটা খানিক কমে দাঁড়িয়েছে ১১ তে। ২০১৬ সালে ৪৮টি, ২০১৭-তে ২৫ ও ২০১৮ সালে ২২টি বাঘের হত্যার ঘটনা সামনে এসেছে।
[caption id="attachment_71529" align="aligncenter" width="658"]

মহারাষ্ট্রে অবনী হত্যাকাণ্ড[/caption]
বাঘের মৃত্যুতে এগিয়ে রয়েছে মধ্যপ্রদেশ। ২০০৮ সাল থেকে মোট ৭১টি বাঘের শিকার হয়েছে রাজ্যে, মহারাষ্ট্র ও কর্নাটকে ৪৬টি বাঘকে নিশানা বানিয়েছে চোরাশিকারিরা, অসম ও ছত্তীসগড়ে ৪২টি এবং উত্তরাখণ্ডে ৩৫টি বাঘ খুন করা হয়েছে গত কয়েক বছরে। পশ্চিমবঙ্গও সে ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার ছাড়াও উত্তরবঙ্গে চিতা বাঘ হত্যার নজিরও খুব কম কিছু নয়।
বিশেষজ্ঞদের এর কারণ হিসেবে সার্বিক সচেতনতার অভাবকে দায়ী করেছেন। একই সঙ্গে প্রশাসনিক কঠোরতার অভাবকেও দুষেছেন। দুদুয়ার মতোই লালগড়ে দিবালোকে বাঘ হত্যা করা হয়। কিন্তু বাঘের মতো প্রাণীকে হত্যা করার অপরাধে যেখানে নজিরবিহীন শাস্তির প্রয়োজন ছিল, সেটা কার্যত হয় না।
তবে আশ্চর্যজনকভাবে ভারতের ১৪টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ২০০৮ সাল থেকে কোনও বাঘ হত্যার ঘটনা ঘটেনি। তাদের মধ্যে রয়েছে, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, চণ্ডীগড়, দাদরা ও নগর হাভেলি, দমন ও দিউ, গোয়া, গুজরাট, জম্মু ও কাশ্মীর, লক্ষদ্বীপ, মেঘালয়, মিজোরাম, পুদুচেরী, পঞ্জাব, সিকিম ও ত্রিপুরা।