দ্য ওয়াল ব্যুরো : উত্তরপ্রদেশে হাইস্কুল ও ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় দুর্দান্ত রেজাল্ট করেছে বেশ কয়েকজন ছাত্রছাত্রী। কিন্তু একই সঙ্গে জানা গেল, রাজ্যে ১৬৫ টি স্কুল পেয়েছে ‘জিরো রেজাল্ট’। তার অর্থ ওই সব স্কুলে একজনও পাশ করেনি। ৩৮৮ টি স্কুলে পাশ করেছে ২০ শতাংশের কম ছাত্রছাত্রী। ইউপি বোর্ডের ডিরেক্টর বিনয় কুমার পাণ্ডে বলেন, এটা নিশ্চয় গর্ব করার মতো খবর নয়। কিন্তু মনে রাখতে হবে, এতে বোঝা যায়, বোর্ডের পরীক্ষার সময় টুকলি বন্ধ করার জন্য কী রকম কড়াকড়ি হয়েছে।
অভিযোগ, কৌশাম্বি জেলায় টুকলি মাফিয়ার দাপট খুব। সেখানে টোকাটুকি বন্ধ করার ক্ষমতা নাকি কারও নেই। সেই জেলাতেই ১৩ টি স্কুলে একজনও পাশ করেনি। ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় আলিগড় ও মৈনপুরিতে সাতটি স্কুলে সবাই ফেল করেছে। রেকর্ড অনুযায়ী, যে সব জেলায় সবচেয়ে বেশি স্কুলে ‘জিরো রেজাল্ট’ এসেছে, তাদের মধ্যে আছে প্রয়াগরাজ, মির্জাপুর, এটাওয়া, বালিয়া, গাজিপুর, হরদোই, আজমগড়, আলিগড়, চিত্রকূট, প্রতাপগড়, সরস্বতী। এছাড়া বাহরাইচ, মাউ, জৌনপুর, সোনেভদ্র, শাহজাহানপুর, কনৌজ, ফতেপুর, সিদ্ধার্থ নগর, দেওরিয়া, বারাণসী, চান্দৌলি, আগ্রা প্রভৃতি জেলাতেও একটি-দু’টি স্কুলে ‘জিরো রেজাল্ট’ এসেছে।
যে ৩৮৮ টি স্কুলে ২০ শতাংশের কম ছেলেমেয়ে পাশ করেছে, তার মধ্যে ১৩৯ টি স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা হাই স্কুলের পরীক্ষা ও ২৪৯ টি স্কুল ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা দিয়েছিল।
যে স্কুলগুলিতে জিরো রেজাল্ট এসেছে তার মধ্যে হাইস্কুলের পরীক্ষা দিয়েছিল ৫০ টি সরকারি স্কুল, পাঁচটি সরকার পোষিত স্কুল ও ৮৪ টি বেসরকারি স্কুল। ইন্টারমিডিয়েট ক্যাটেগরির স্কুলগুলির মধ্যে আছে ১৫ টি সরকারি স্কুল, ৫৮ টি সরকার পোষিত স্কুল এবং ১৭৬ টি বেসরকারি স্কুল।
তেলেঙ্গানার খবর, ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় যাঁরা খাতা দেখেছেন, তাঁদের মধ্যে একজনকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। আরও একজনকে জরিমানা করা হয়েছে। অভিযোগ, এক ছাত্রের খাতায় তাঁরা ৯৯ দেওয়ার বদলে শূন্য দিয়েছিলেন। বিষয়টি নিয়ে তিন সদস্যের এক তদন্ত কমিটি রিপোর্ট দেয়। তাতে বলা হয়ে, খাতা দেখার সময় কয়েকজন শিক্ষক কর্তব্যে গাফিলতি করেছেন।
রবিবার বোর্ড অব ইন্টারমিডিয়েট এক্সামিনেশন ঘোষণা করে, উমা দেবী নামে বেসরকারি স্কুলের এক শিক্ষিকা নব্য নামে এক দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রের তেলুগু খাতায় ৯৯ এর বদলে শূন্য দিয়েছেন। তাঁকে স্কুলের ম্যানেজমেন্ট বরখাস্ত করেছে। বিজয় কুমার নামে এক স্ক্রুটিনাইজার সেই খাতা দেখেছিলেন, কিন্তু ভুলটা ধরতে পারেননি। তাই তাঁকেও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এবার তেলেঙ্গনায় ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় ৩ লক্ষের বেশি ছেলেমেয়ে ফেল করেছে। তারপরে ২০ জন ছাত্রছাত্রী আত্মহত্যা করে। অভিভাবকরা বোর্ডের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখান। সরকার ঘোষণা করে, ফেল করা ছেলেমেয়েদের খাতা বিনা মূল্যে ফের ভেরিফিকেশন করা যাবে।