
মনোজ ভার্মা। পুলিশ কমিশনার।
শেষ আপডেট: 7 October 2024 13:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার রাত থেকেই কাজে ফিরেছেন আন্দোলরত জুনিয়র চিকিৎসকদের সিংহভাগ। একই সঙ্গে আরজি করের নির্যাতিতার বিচারের দাবিতে ধর্মতলায় ধর্নামঞ্চ বেঁধে অবস্থানও শুরু করছেন তাঁরা। ৬ দিয়ে শুরু হওয়া সেই মঞ্চে বাড়ছে অনশনকারীর সংখ্যাও। জুনিয়রদের সঙ্গে রিলে অনশনে যোগ দিয়েছেন সিনিয়ররাও।
যদিও ধর্মতলায় ধর্না করার অনুমতি দেয়নি পুলিশ। এ ব্যাপারে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করা হবে কিনা তা নিয়ে এবার মুখ খুললেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা। সোমবার পুজো উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে যোগ দেন সিপি। সেখানেই সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "বিষয়টি খতিয়ে দেখে উপযুক্ত পদক্ষেপ করা হবে।"
শনিবার সকালেই লালবাজারের তরফে মেল করে তাঁদের অবস্থান তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। পুজোতে সাধারণ মানুষের অসুবিধা হবে এবং যান নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হবে এই যুক্তি দিয়েই পুলিশ জুনিয়র ডাক্তারদের ধর্না তুলতে বলে।
পুলিশের বক্তব্য়, যে এলাকায় ধর্নামঞ্চ বাঁধা হয়েছে সেই এলাকাটিকে সবসময় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি থাকে। অর্থাৎ একসঙ্গে চারজনের বেশি জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ ব্যাপারেই পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন সিপি।
অন্যদিকে জুনিয়রদের আন্দোলনের ঝাঁঝ বাড়াতে ইতিমধ্যে তাঁদের সঙ্গে অনশনে সামিল হয়েছেন সিনিয়র চিকিৎসকরাও। রবিবার এ ব্যাপারে ধর্না মঞ্চ থেকে পুলিশের ভূমিকার সমালোচনাও করেন সিনিয়র চিকিৎসক বাসববিজয় সরকার, অনির্বাণ চৌধুরীরা। প্রশাসনের সদিচ্ছা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তাঁরা।
বাসববাবু বলেন, "আরজি করের যে ছাত্রীটিকে হত্যা করা হল, এরা তো তার ন্যায় বিচার চাইছে। ওরা যে ১০ দফা দাবির কথা বলেছে, সেগুলো প্রত্যেকটা ন্যায্য।পুলিশ যা ভূমিকা তাতে কি ধরে নেব এই সরকার, এই পুলিশ ন্যায়ের বিরুদ্ধে?"
ডক্টর অনির্বাণ চৌধুিরী বলেন, "আরজি করের পরও অনেকগুলো ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে রাজ্যে। অথচ সব কিছু দেখে মনে হচ্ছে সবাই পুজো নিয়ে ব্যস্ত। এটা নিয়ে প্রশাসনের কোনও মাথাব্যাথা নেই। ফলে বিচার পেতে হলে আন্দোলনকে আরও জোরদার করতে হবে।"
পুলিশ কী পদক্ষেপ করে, আপাতত সেদিকে নজর রাখছেন আন্দোলনরত ডাক্তাররা।