দ্য ওয়াল ব্যুরো : কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজয় মিশ্রের (Ajay Mishra) পদত্যাগের দাবিতে সোমবার বেলা ১০ টা থেকে বিকাল চারটে অবধি রেল রোকোর ডাক দিয়েছিল সংযুক্ত কৃষক মোর্চা। সেইমতো সকাল থেকে পাঞ্জাব ও অপর কয়েকটি রাজ্যে আন্দোলনকারীরা ট্রেনলাইনে বসে পড়েন। ১৬০ টির বেশি ট্রেনের চলাচল ব্যাহত হয়। রেল সূত্রে খবর, ফিরোজপুর ডিভিশনের চারটি সেকশনে এদিন অবরোধ হয়। ফিরোজপুর-ফাজিলকা সেকশন ও ফিরোজপুর-লুধিয়ানা সেকশনে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। কৃষক নেতা রাকেশ টিকায়েত বলেন, বিভিন্ন জেলায় এদিন রেল অবরোধ হয়েছে। সরকার এখনও আমাদের সঙ্গে কথা বলতে চাইছে না।
গত ৩ অক্টোবর উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর খেরিতে কৃষকদের জমায়েতের মধ্যে ঢুকে পড়ে একটি গাড়ি। চার কৃষক নিহত হন। অভিযোগ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অজয় মিশ্রের ছেলে আশিস মিশ্র গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। আশিস গত সপ্তাহে গ্রেফতার হয়েছেন। কিন্তু কৃষক সংগঠনগুলি এখনও অজয় মিশ্রের পদত্যাগের দাবিতে অনড়।
রবিবার লখনউ পুলিশ জানিয়েছিল, যারা রেল রোকো আন্দোলনে অংশ নেবে, তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত করলে ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে মামলা হবে।
সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা থেকে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, "অজয় মিশ্র ঘৃণা ছড়ান। তিনি হিন্দু ও শিখদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে চাইছেন। তাঁর গাড়িই আন্দোলনরত কৃষকদের চাপা দিয়েছিল। পুলিশ তাঁর ছেলেকে তলব করা সত্ত্বেও তিনি ছেলে ও তার কয়েকজন বন্ধুকে আশ্রয় দিয়েছিলেন।"
বৃহস্পতিবার ঘটনার পুনর্গঠন করার জন্য আশিস মিশ্রকে লখিমপুর-খেরিতে নিয়ে যায় পুলিশ। আশিসের সঙ্গে ছিলেন তাঁর বন্ধু অঙ্কিত দাস। পুলিশের গাড়ির সাহায্যে সেদিনের ঘটনার পুনর্গঠন করা হয়।
সাংবাদিকদের তোলা ভিডিও ছবিতে দেখা যায়, পুলিশের একটি জিপ প্রচণ্ড গতিতে কয়েকটি ডামিকে ধাক্কা মারছে। একটি ছবিতে দেখা যায়, ঘটনাস্থল ঘিরে দিয়েছে পুলিশ। অনেকে প্রশ্ন তোলেন, ঘটনার পরেই পুলিশ এলাকাটি ঘিরে দেয়নি কেন? ৩ অক্টোবরের পরে অন্তত ৪৮ ঘণ্টা ধরে অনেকেই সেখানে গিয়েছেন।
গত বুধবার কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে তাঁর দলের কয়েকজন প্রতিনিধি রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে অনুরোধ করেন, তিনি যেন লখিমপুরের ঘটনা নিয়ে সরকারের সঙ্গে কথা বলেন।
পরে কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বলেন, রাষ্ট্রপতিকে আমরা জানিয়েছি, লখিমপুরে মৃতদের পরিবার মনে করে, যতদিন আশিসের বাবা ক্ষমতায় রয়েছেন, ততদিন ন্যায়বিচার হওয়া সম্ভব নয়। তাই সারা দেশের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ মনে করেন, অজয় মিশ্রের পদত্যাগ করা উচিত।