
শেষ আপডেট: 16 September 2018 02:23
নন্দরাম মার্কেটের অদূরেই ফিরে এল সেই ভয়াবহ স্মৃতি। ক্যানিং স্ট্রিটের ছয় তলা উঁচু বাগরি মার্কেটের একটা বড় অংশ ভস্মীভূত বিধ্বংসী আগুনে। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে দমকলের ৩৫টি ইঞ্জিন। এসেছে কলকাতা পুলিশের বিপর্যয় মোকাবিলাকারী দল। সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি বলে জানিয়েছেন দমকল কর্মীরা। এলাকায় প্রচুর ইলেকট্রিকের তার ছড়িয়ে থাকার কারণে ল্যাডার ব্যবহার করা যাচ্ছে না। বাড়ির ভিতরেও ঢুকতে পারছেন না দমকল কর্মীরা। ঘিঞ্জি এলাকা হওয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে আগুন। গ্যাস কাটার দিয়ে কাটা হচ্ছে দোকানের শাটার। ল্যাডার এনে মার্কেটের উপরের অংশে ঢোকার চেষ্টা চালাচ্ছেন দমকলকর্মীরা। গ্যাস কাটার দিয়ে গ্রিল কেটেও ভিতরে ঢোকার চেষ্টা হচ্ছে। চারিদিক থেকে কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছে গোটা এলাকা। গ্রাউন্ড ফ্লোর, একতলা এবং দোতলার বিভিন্ন অংশ থেকে নতুন করে দেখা যাচ্ছে আগুনের লেলিহান শিখা। কালো আস্তরণ পড়ে গিয়েছে দেওয়ালে। দেখা গিয়েছে বড়সড় ফাটল।
https://www.youtube.com/watch?v=Ll3tyxTw_jU
জানা গিয়েছে, যেখানে আগুন লেগেছে সেখানে রয়েছে ওষুধের গুদাম। রয়েছে পারফিউমের দোকান এবং কসমেটিক্সের দোকান এবং গ্যাস সিলিন্ডারও। এই ওষুধের গুদামে থাকা বিভিন্ন রাসায়নিক এবং পারফিউম দাহ্য পদার্থ হওয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে আগুন। এ ছাড়াও রয়েছে প্রচুর কাগজ, প্লাস্টিকজাত দ্রব্য। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, প্রচুর পরিমাণ দাহ্য পদার্থ জমে রয়েছে ওই এলাকায়। অতিরিক্ত পরিমাণে দাহ্য পদার্থ থাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে আগুন। একাধিক দোকানে রয়েছে এসি মেশিন। আগুন লাগার ফলে একের পর এক এসি মেশিনে বিস্ফোরণ হচ্ছে। ফাটল দেখা গিয়েছে দোকানগুলির দেওয়ালে। ভেঙে পড়ছে বাড়ির দোতলার কাঁচ। ভিতর থেকে বারবার আসছে বিস্ফোরণের শব্দ।
রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছন মেয়র ও দমকলমন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, "যুদ্ধকালীন তৎপরতার সঙ্গে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন দমকল কর্মীরা।" যদিও স্থানীয়দের অভিযোগ প্রায় দু'ঘন্টা দেরিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে দমকল বাহিনী। এক প্রত্যক্ষদর্শীর কথায়, "কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। আরেকটু আগে দমকল এলে হয়তো কিছুটা ক্ষতি বাঁচানো যেত। সবই শেষ হয়ে গেল।"
প্রায় ৬ ঘণ্টা কেটে গেলেও নিয়ন্ত্রণে আসেনি আগুন। কতক্ষণে এই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসবে সে ব্যাপারে কিছুই বলতে পারছেন না দমকলকর্মীরাও। আপাতত মার্কেটের দোতলা পর্যন্ত পৌঁছতে পেরেছেন দমকলকর্মীরা। কিন্তু কাঁচ ভেঙে বা গ্রিল কেটে ভিতরে জল দেওয়া হলেই বেড়িয়ে আসছে কালো ধোঁয়া। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন প্রায় ৪০০-র বেশি দোকান রয়েছে এই বাগরি মার্কেটে। তার মধ্যে ১৭৫-এর কাছাকাছি রয়েছে সুধু ওষুধেরই দোকান। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য তৎপরতার সঙ্গে কাজ করছেন দমকলকর্মীরা। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, সঠিকভাবে কাজ করছে না দমকল। সাড়ে আটটা পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী এখনও ভিতর থেকে বেড়িয়ে আসছে কালো ধোঁয়া। শোনা যাচ্ছে বিস্ফোরণের শব্দ। প্রায় ১০ ঘণ্টা পর বাগরি মার্কেটের ভিতরে ঢুকতে পেরেছেন দমকলকর্মীরা। উদ্ধার কাজে নামুক সেনা। এমনটাই দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা। অন্যদিকে দমকল কর্মীরা জানিয়েছেন, আগের তুলনায় কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে আগুন। যদিও ঘড়ির কাঁটায় সময় যত এগোচ্ছে বাগরি মার্কেটের উপরের তলাগুলো থেকে খসে পড়ছে চাঙর। আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয়রা। আপাতত হাইড্রলিক ল্যাডার এনে আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন দমকল কর্মীরা।