দ্য ওয়াল ব্যুরো: চোদ্দর পরে সংখ্যাটা পনেরো। বিদেশ প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবরের বিরুদ্ধে #মিটু অভিযোগের তালিকাটা ক্রমশই দীর্ঘ হচ্ছে। আগুনটা জ্বলেছিল সাংবাদিক প্রিয়া রামানিকে দিয়ে, এ বার তাতে অতিরিক্ত ঘি যোগ করলেন সাংবাদিক তুষিতা পটেল। তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে জাপটে ধরে চুমু, শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের কুৎসিত ইঙ্গিত- তুষিতার অভিযোগের তালিকাটাও নেহাত ছোট নয়।
এশিয়ান এজ-এর জার্নির শুরুর দিক থেকেই ছিলেন তুষিতা। আকবর যখন সেখানকার সম্পাদক। দীর্ঘ ১৫ বছর এশিয়ান এজ-এর সম্পাদকের পদে ছিলেন আকবর। তাঁর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলে গর্জে উঠেছেন তুষিতা, "আর কতদিন মিথ্যেটাকে ঢাকবেন। অবাক হচ্ছি আপনার মধ্যে অনুতাপের লেশমাত্র নেই। সব কিছু জেনেও মিথ্যে তর্ক করে যাচ্ছেন। এখন যদি আমি মুখ না খুলি, তাহলে আপনার অপরাধের অন্ধকার দিকটা আড়ালেই থেকে যাবে।"
তুষিতা তখন বাইশের তরুণী। টেলিগ্রাফ সংবাদপত্রের শিক্ষানবিশ সাংবাদিক। এম জে আকবর তখন টেলিগ্রাফের সঙ্গে জড়িত। তুষিতার কথায়, আকবরের সঙ্গে তাঁর প্রথম দেখা একটি হোটেলে। প্রথম সাক্ষাতেই আকবর তাঁর ফোন নম্বর চান এবং হোটেলের ঘরে দেখা করার প্রস্তাব দেন। অভিযোগকারিনীর কথায়, চাকরির শুরু। তাই আকবরের দুরভিসন্ধির সামান্যতম আঁচও পাননি তিনি। কথা মতো একদিন নির্দিষ্ট হোটেল রুমে গিয়ে বেল বাজান। দরজা খুলে যিনি বেরিয়ে আসেন, তাঁর সঙ্গে প্রথম দেখা মানুষটির আকাশ-পাতাল তফাৎ। চমকে ওঠেন তুষিতা।
পরনে শুধু অন্তর্বাস। সারা গায়ে পোশাকের কুটোটিও নেই। ওই ভাবেই তুষিতাকে ভিতরে আসতে বলেন আকবর। শিউড়ে ওঠেন তরুণী। ভয় ও আতঙ্কে আড়ষ্ট হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন দরজার সামনেই। আচমকাই তাঁকে জাপটে ধরে চুমু খেতে শুরু করেন আকবর। কোনও রকমে নিজকে সেই বাহুপাশ থেকে ছাড়িয়ে নীচে নেমে রিক্সা ধরেন তিনি। তুষিতা জানিয়েছেন, সেই দিনের অভিজ্ঞতা তাঁকে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত করে ফেলে।
শেষটা এখানেই নয়। ঠিক তার পর দিন ফের আঘাত আসে। অফিসে পৌঁছতেই তুষিতাকে জোর করে একটি ফাঁকা কনফারেন্স রুমে নিয়ে যান আকবর। ফের তাঁকে জড়িয়ে ধরে চুমু খান। কোনও রকমে পালিয়ে বাথরুমে ঢুকে কাঁদতে থাকেন তুষিতা। এইভাবে পর পর দু'বার তাঁকে শারীরিক ভাবে হেনস্থা করেছিলেন বলেই অভিযোগ তুলেছেন তুষিতা।
যৌন হেনস্থার একের পর এক অভিযোগে বিদ্ধ হয়েও বিদেশ প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেবেন না বলে আগেই জানিয়েছিলেন এম জে আকবর। উল্টে আজ প্রথম অভিযোগকারিনী সাংবাদিক প্রিয়া রামানির বিরুদ্ধে মানহানির ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছেন তিনি। জানিয়েছেন এই সব ভিত্তিহীন অভিযোগের বিরুদ্ধে লড়তে তিনি প্রস্তুত। তবে, নিজের দাবিতে অবিচল তুষিতা। বলেছেন, প্রয়োজনে পাল্টা লড়াই করতে রাজি তিনিও।