দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বেচ্ছায় নাকি বলপূর্বক সেটা এখনও স্পষ্ট নয়। সেই নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে উত্তপ্রদেশের বান্দা জেলার এই ঘটনা ফের উস্কে দিয়েছে রাজস্থানের রূপ কানোয়ার স্মৃতি।
বান্দার শাহবাজার বারকোলা গ্রাম। ৭৫ বছরের মাঙ্গি রামের মৃত্যুর পর একই চিতায় ‘সহমরণ’-এ যাচ্ছেন তাঁর স্ত্রী সাবিত্রী, এমন খবর পেয়েই হাজির হয় পুলিশ। বান্দা পুলিশ সুপার গণেশ প্রসাদ সাহা জানিয়েছেন, মহিলাকে সাজিয়ে গুছিয়ে তৈরি রাখা হয়েছিল। চিতা সাজিয়ে মাঙ্গি রামকে তাতে তোলার পরই সাবিত্রীকে নিয়ে গিয়ে বসানো হত সেই চিতায়। তার পুরো প্রস্তুতিই সেরে রেখেছিল পরিবারের লোকজন। তাতে সঙ্গ দিয়েছিলেন জনা কয়েক গ্রামবাসীও। সঠিক সময় পৌঁছে, বাড়ির থেকে সাবিত্রীকে বার করার মুখেই বাধা দেয় পুলিশ। আটক করা হয় তাঁর পরিবারের কিছু লোকজন-সহ কয়েকজন গ্রামবাসীকেও। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা শুরু হয়েছে।
‘‘বাবা মারা যাওয়ার পর মা নিজের ইচ্ছাতেই সতী হতে চেয়েছিল। আমরা তাঁর কথা রাখছিলাম মাত্র’’, পুলিশকে বয়ানে এমনটাই জানিয়েছেন সাবিত্রীর বড় ছেলে রাম নারায়ণ যাদব। পুলিশ সূত্রে খবর, বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন মাঙ্গি রাম। বুধবার ভোরের দিকে মৃত্য হয় তাঁর। পরিজনরা তাঁকে দাহ করতে নিয়ে যান স্থানীয় শ্মশানে। চিতাকাঠ সাজিয়ে শুরু হয় সহমরণের প্রথা। পুলিশ জানিয়েছে, আশপাশের গ্রাম থেকে বহু মানুষ এই খবর শুনে ভিড় জমিয়েছিলেন শ্মশানের আশপাশে। পরিবারের লোকজন ও গ্রামবাসীদের আটকাতে তাই বিশাল পুলিশবাহিনী পৌঁছয় গ্রামে। পুলিশের উপস্থিতিতেই দাহ করা হয় মাঙ্গি রামকে। সাবিত্রীকে উদ্ধার করে পাঠানো হয় স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বান্দায় এমন ঘটনা ৪০ বছর আগেও ঘটেছে। ১৯৭৯ সালে ডাকাতদের হাতে মৃত্যু হয়েছিল রমাকান্তের। তাঁকে দাহ করার সময়ই নাকি চিতায় ঝাঁপিয়ে প্রাণ দেন তাঁর স্বামী জাভিত্রীদেবী। পরে তাঁর নামে একটি মন্দিরও তৈরি হয় গ্রামে।
১৯৮৭ সালের ৪ সেপ্টেম্বর রাজস্থানের শিকার জেলার দেওরালা গ্রামে স্বামীর সঙ্গে ‘সহমরণে’ যান রূপ কানোয়ার নামে বছর আঠারোর এক তরুণী। ওই সময় শ্মশানে হাজির ছিলেন কয়েক হাজার স্থানীয় মানুষ। রূপকে ‘সতীমাতা’ বলে চিহ্নিত করে রাতারাতি সেখানে মন্দিরও তৈরি হয়ে যায়। ঘটনার কথা ছড়াতেই দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিকে ৪৫ জনের বিরুদ্ধে রূপকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগে মামলা করে পুলিশ। পরে প্রমাণের অভাবে সকলেই বেকসুর খালাস পেয়ে যান।