
শেষ আপডেট: 14 December 2018 18:30
দুর্গাপুজো, দিওয়ালি, ভাইফোঁটার পালা শেষ। বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের পালা প্রায় চুকেবুকে গেছে। তবে শীতের আমেজে সান্তার হাত ধরে এখনও বড়দিনের উৎসব বাকি। যদিও বাঙালির খাস ফর্দের খাতায় ক্রিসমাসের তেমন কোনও লিস্টি হয় না, তবুও হুজুগে, উৎসবপ্রিয় বাঙালি বড়দিনকেও সানন্দে গ্রহণ করে নিয়েছে। ২৫ ডিসেম্বর মানেই কেক-পেস্ট্রির এলাহি আয়োজনের সঙ্গে প্রিয় মানুষকে সঙ্গে নিয়ে রেস্তোরাঁয় লাঞ্চ বা ডিনার এখন বং-কালচারেরও একটা ট্রেন্ড বটে। আর উৎসব মানেই দেদার খানাপিনা। হাতা-খুন্তির পালা চুকিয়ে কব্জি ডুবিয়ে চর্ব-চোষ্য মোগলাই, চাইনিজ বা কন্টিনেন্টাল। অন্যান্য উৎসবের মতো তাই বড়দিনকেও স্বাদে-গন্ধে ভরিয়ে তুলতে পসরা সাজিয়েই রেখেছে ‘অওধ ১৫৯০’ ও ‘মাস্টার ডিমসাম’।
বড়দিনের শুরুটা হোক চাইনিজ দিয়েই। হেমেন্দ্র মুখোপাধ্যায় সরণি বা সাদার্ন অ্যাভিনিউয়ের বিবেকানন্দ পার্কে এখন বাঙালির অতি আপন ‘মাস্টার ডিমসাম’। চিনা পদ ‘বাওজি’ এবং ‘জিয়াওজি’র মতোই পেটে পুর ঠাসা হরেক রকম মোমোর স্বাদ চাখতে ছুটতেই হবে এই রেস্তোরাঁয়। পছন্দের ডিমসামের স্বাদ ও গন্ধ নিমেষের মধ্যে উড়িয়ে নিয়ে যাবে চিনের কোনও নামজাদা রেস্তোরাঁ পাড়ায়।

স্টিমড বাওয়ের স্বাদ লেগে থাকতেই যখন পর্ক সুয়ে মাই পাতে এসে পড়বে মন ও জিভ দুই মজে যাবে গ্যারান্টি। চিনা হেঁসেলের টানে মাস্টার ডিমসাম-এ খেতে এসে বাঙালি তাই চাখছে সয়া সসে মাখা চটপটা হংকং স্টাইল জিওজা। মাংসের বা সব্জির পুরে পুষ্ট জমজমাট মোমো। পালং-মাশরুমের যুগলবন্দিতে নুডলস স্যুপে ভাসমান কর্ন বল স্টিক, নুডলস স্যুপে সব্জির সঙ্গে হাত ধরে ভেসে থাকা পুরুষ্টু মিট বলের স্বাদ অগ্রাহ্য 
করার নয়। দক্ষিণ চিনের স্পেশাল ডাম্পলিং থুড়ি ব্লেন্ড করা সব্জির সঙ্গে মিহি মাংসের (বিশেষত পর্ক) পুর কোনও এক নাম না জানা সসের সঙ্গে মাখামাখি হয়ে রসনায় ঝড় তুলছে। খাস থাইল্যান্ডের স্মৃতি মাখা ঝালঝাল থাই ডাম্পলিং-ও বাঙালির জিভে খুলছে। খাবারের পাশাপাশি পরিবার,বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে হ্যাংআউটেরও আদর্শ জায়গা ‘মাস্টার ডিমসাম’।
চাইনিজ দিয়ে যদি লাঞ্চের শুরুটা হয়, তাহলে নবাবি স্বাদে ডিনার হলে মন্দ হয় না। তার জন্য রয়েছে‘অওধ ১৫৯০’ । রান, শাহি পায়া, কিমা কালেজি, গোস্ত মেটিয়াব্রুজ বিরিয়ানি, মুর্গ পর্দা বিরিয়ানি, লখনৌ পরোটার সঙ্গে মুর্গ ইরানি। আর বিরিয়ানি মানেই যে বাঙালির মুখে একটা চওড়া হাসি ফুটে ওঠে এটা কে না জানে। আর কলকাতার বিরিয়ানি মানেই নরম তুলতুলে মাংস আর গরম ধোঁয়া ওঠা সুগন্ধী চালের ফাঁক দিয়ে উঁকি দেওয়া পেলব আলু।

খাস লখনউ শহর থেরে বাবুর্চি আনিয়ে রান্নার চল এখনও রয়েছে। দারুচিনি, লবঙ্গ ও এলাচের অনন্য ফ্লেভারে সুরভিত হলুদ ভাতের ফাঁকে ফাঁকে আলু ও মাংস গুঁজে হাঁড়িতে পুরে অওধ সটাইল হান্ডি বিরিয়ানি চাখতে চাখতেই পাতে চলে আসবে তুলতুলে গলৌটি কাবাব। কাকরি কাবাব, শাম্মি কাবাব, বটি কাবাব, জাফরানি কাবাব থেকে শিখ কাবাব-আপনার থালা আলো করবে। চামচ আর প্লেটের সঙ্গে সন্ধি করে জগৎ-সংসার ভুলে যত খুশি কাবাব খান, কে বারণ করেছে! অওয়াধি সুগন্ধী কাবাব ও শাহি দই কাবাব আপনার রসনার পুষ্টি যোগাবে।
মাহি চাপ, ঝিঙ্গা বিরিয়ানি, মাহি কোফতার নাম না শুনে থাকলেও জিভের সঙ্গে একটিবার পরিচয় করাতে ভুলবেন না। ঝালে-ঝোলে-অম্বলে জিভের আড় ভাঙতে বাঙালি মন একটু মিষ্টি মিষ্টি করেই। সেখানেও নিরাশ করেনি অওধ। ফিরনির সঙ্গে শাহি টুকরা বা কুলফি ফালোদা আপনার রসনায় ঝড় তুলবেই। আম খাস সরবতও চাখতে ভুলবেন না।
খাস লখনউ শহরকে কলকাতায় এনে ফেলেছেন দুই কর্ণধার ভাই শিলাদিত্য ও দেবাদিত্য চৌধুরী। শুধু খাবারের প্লেট নয়, রেস্তোরাঁর অন্দরসজ্জাও সাজিয়ে তোলা হয়েছে নিখুঁত ভাবে লখনউ নবাবি রাজদরবারের আদলে। থালা, বাটির চাকচিক্যে নবাবি খানার স্বাদ, সঙ্গে মন মাতাবে আখতারির গান।
বড়দিনের মেজাজে 'মাস্টার ডিমসাম' ও 'অওধ ১৫৯০' আপনাকে আপ্যায়নের জন্য একদম তৈরি।