দ্য ওয়াল ব্যুরো: লাহৌর জেলে বন্দি অবস্থায় কয়েকজন সহ-বন্দির আক্রমণে প্রাণ গিয়েছিল সর্বজিত সিংহের। তাদের মধ্যে নাম উঠেছিল আমির তাম্বা ও মুদাস্যারের। দু'জনের বিরুদ্ধেই মামলা চলছিল লাহৌর দায়রা ও জেলা আদালতে। শনিবার সেই মামলার রায়ে দু'জনকেই বেকসুর খালাস করলেন বিচারক।
সূত্রের খবর, এই দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে জোরালো কোনও নথি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ আদালতে পেশ করতে পারেনি পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীরাও সেদিনের ঘটনায় মুখ কুলুপ এঁটেছেন। প্রমাণের অভাবেই দু'জনকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছে আদালত।
জেল থেকে ভিডিও কলের মাধ্যমে অভিযুক্তদের বয়ান শুনেছেন বিচারক। প্রশ্নোত্তর পর্বও চলেছে সে ভাবেই। আগের বার শুনানিতে এক সাক্ষ্মী জানিয়েছিলেন, সর্বজিতকে যখন জেল থেকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তাঁর অবস্থা ছিল গুরুতর। মাথা ফেটে রক্তে ভিজে যাচ্ছিল গোটা শরীর। পুলিশের দাবি, সে সময় সর্বজিতের বয়ান রেকর্ড করা সম্ভব হয়নি। চিকিৎসকরাই তাঁদের বাধা দিয়েছিলেন। তা ছাড়া, বয়ান দেওয়ার মতো অবস্থাতেও ছিলেন না তিনি।
সন্ত্রাসবাদী এবং গুপ্তচর তকমা দিয়ে ভারতীয় নাগরিক সর্বজিতকে ১৯৯১ সালে প্রাণদণ্ডের নির্দেশ দেয় পাক আদালত। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতের হযে গোয়েন্দাগিরি এবং লাহৌর ও মুলতানে বোমা বিস্ফোরণে ১৪ জনকে হ্ত্যার অভিযোগ আনা হয়। লাহৌর জেলে বন্দি সর্বজিতের মুক্তির জন্য লড়াই করে ভারত সরকার। ২০০৮-এ পাক-সরকার অনির্দিষ্ট কালের জন্য সর্বজিতের প্রাণদণ্ড মুলতুবি রাখে। কিন্তু ২০১৩ সালে কয়েকজন সহ-বন্দির আক্রমণে নিহত হন সর্বজিত।