দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিস্ফোরণের বিভীষিকা এখনও চোখে ভাসে প্রত্যক্ষদর্শীদের। ঘটনার দিনই মারা গিয়েছিল আট বছরের বিভাস ঘোষ। শনিবার রাতে মৃত্যু হয় আহত ফল বিক্রেতা অজিত হালদারের। ঘটনার তেরো দিন পর মারা গেলেন বিস্ফোরণে আহত আরও এক জন।
পুলিশ জানিয়েছে মৃতের নাম শরৎ চন্দ্র শেট্টি। বয়স বছর ৫০। বিস্ফোরণের দিন সারা দেহ ঝলসে যায় তাঁর। আশঙ্কাজনক অবস্থায় এতদিন আরজিকর হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিলেন তিনি। ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিল তাঁকে। আজ বিকেলে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
গত ২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীর দিন প্রচণ্ড বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে দমদমের নাগেরবাজার এলাকা। কাজিপাড়ার একটি বহুতলের নীচে ফলের দোকানে বিস্ফোরণ হয়। তার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে দোকানের পিছনে গ্যারাজের শাটার খুলে বেরিয়ে আসে। ক্ষতিগ্রস্ত হয় আশপাশের বেশ কয়েকটি বাড়ি। মৃত্যু হয় একটি শিশুর। জখম হন আরও জনা দশেক।
নাগেরবাজারের কাজিপাড়ার ফুটপাথে যেখানে ফলের দোকান সাজিয়ে বসতেন অজিত, বিস্ফোরণটি হয়েছিল ঠিক তার পাশেই। ফলে তিনিই ছিলেন ওই ঘটনার অন্যতম প্রত্যক্ষদর্শী। তাঁর প্রাথমিক বয়ানের ভিত্তিতেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছিলেন সিআইডি অফিসাররা। অজিত জানিয়েছিলেন, আটা কিনতে যাওয়ার কথা বলে এক ব্যক্তি তাঁর দোকানের পাশে একটি ব্যাগ রেখে যান। সেই ব্যাগ থেকেই বিস্ফোরণ হয়।
যে বহুতলের নীচে বিস্ফরণ হয়, তার একটি তলেই ছিল দক্ষিণ দমদম পুরসভার চেয়ারম্যান পাচু রায়ের অফিস। ওই বিস্ফোরণের 'টার্গেট' তিনিই ছিলেন বলে দাবিও করেন পাচু রায়। এর পর জল গড়ায় বহুদূর। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিআইডির গোয়েন্দারা দাবি করেন, এই বিস্ফোরণের পিছনে স্থানীয় দুষ্কৃতীদের একটি দল জড়িত রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তাদের কয়েক জনকে ‘সন্দেহভাজন’ হিসেবে চিহ্নিতও করা হয়। জেরা করা হয় ফল বিক্রেতা অজিতের বোন যমুনাকেও।
তদন্তকারীদের একাংশের দাবি, এই বিস্ফোরণে কাউকেই সন্দেহের বাইরে রাখা হচ্ছে না। যেহেতু অজিতের দোকানের পিছনেই বিস্ফোরণ হয়েছে তাই তাঁর এবং যমুনার সম্পর্কেও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় একটি মোবাইল ও ফটোকপির দোকানের মালিক-সহ তিন জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদও চালাচ্ছে সিআইডি।