
শেষ আপডেট: 14 October 2018 18:30
তিন দিনের পুজো। উত্তর আমেরিকার আর পাঁচটা বড় পুজোর মধ্যে এটিও একটি। কাজেই শয়ে শয়ে মানুষ ভিড় জমান এই পুজো দেখতে। রেজিস্ট্রেশন জমা পড়ে বহুদিন আগে থেকেই। পঞ্জিকার নির্ঘণ্ট মানা এখানে সম্ভব নয়, তাই ছুটির দিন দেখে আগামী শুক্রবার ১৯ অক্টোবর একই সঙ্গে মহাষষ্ঠী ও মহাসপ্তমীর পুজো ও মন্ত্রপাঠ। পরদিন মহাষ্টমীর সঙ্গে সন্ধিপুজো, পুষ্পাঞ্জলি। রবিবার নবমীর পুজো শেষে বিজয়ার সিঁদুর খেলায় মাতবেন সবাই। সেখানে ধর্ম ও জাতের ভেদাভেদ নেই। একই সঙ্গে মা’কে বরণ করে দশমীর রীতি পালন। শেষে কোলাকুলি ও মিষ্টিমুখ।
পুজো প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায় বহুদিন আগেই থেকেই। প্রবাসী বাঙালিদের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে জোগাড়ের দায়িত্ব সামলান অবাঙালিরাও। কুমোরটুলি থেকে উড়িয়ে আনা হয় সাবেকি প্রতিমা। নিজেদের উদ্যোগেই মণ্ডপসজ্জা থেকে প্রতিমার সাজসজ্জা। শিল্পীর অসামান্য কারিগরি দক্ষতায় সব আয়োজনই নিখুঁত। শিউলি ফুলের গন্ধে না ভাসলেও মনের আবেগে এখানে দেবীর আবাহন হয়। সেখানে কলকাতার আর নিউজার্সি মিলেমিশে এক হয়ে যায়।
কল্লোল পুজোর মূল আকর্ষণ হল রঙিন জলসা। কলকাতার নামী শিল্পীদের নির্বাচন ও উড়িয়ে আনার প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায় বহু আগে থেকেই। হালফিলের বাংলা ব্যান্ডের চমক যেমন থাকে, তেমনি থাকে বাউলের মনমাতানো সুর। লোকসঙ্গীতের সঙ্গে বাংলার সোঁদা মাটির গন্ধ চান অনেক প্রবাসীই।
ভোগের থালাতেও তাই বাঙালি খানার রমরমা। তিন-চার দিন হেঁশেলে একদম তালাচাবি পড়ে যায়। বাঙালি স্বাদের খিচুড়ি থেকে মাটন কষার স্বাদে মেতে ওঠে ভোজনরসিক বাঙালি। পুজো উদ্যোক্তারা জানালেন, শনিবার নিরামিষের বালাই নেই। তাই জিরা রাইস, ছোলার ডাল, এঁচোড়ের ডালনার সঙ্গে কষা মাংসের স্বাদে মন ও জিভ দুই মজে যাবে। পাশাপাশি, কন্টিনেন্টালের আয়োজনও রয়েছে। চিকেন নাগেটস, ম্যাক অ্যান্ড চিজের সঙ্গে মোজারেল্লা চিজ স্টিক। দশমীর মেনু একটু অন্যরকম। পোলাওয়ের সঙ্গে ঝিঙে-আলু পোস্ত, লাউ দিয়ে মটর ডালের সঙ্গে ডিমের ডালনা। শেষ পাতে ভোজনরসিক বাঙালিদের কথা মাথায় রেখে মিষ্টি দই।
তবে, দেশের নানা প্রান্ত থেকেই প্রবাসীরা ভিড় জমান কল্লোলের পুজো দেখতে। তাই সবার পছন্দমাফিক খাবারই রাখা হয় মেনুতে। ঝালে-ঝোলে-অম্বলে জমজমাট হয়ে ওঠে পুজো। সাজগোছেও চোখে পড়া অভিনবত্ব। ওয়েস্টার্ন আউটফিটের সঙ্গে একই সঙ্গে সঙ্গত করে ঢাকাই-জামদানি-কাঞ্জিভরম। সেই সঙ্গে ম্যাচিং বাহারি গয়না। ঢাকের তালে তালে পা মেলান আট থেকে আশি।
কল্লোল কমিউনিটি শুধু দুর্গাপুজো নয়, পয়লা বৈশাখ থেকে বাঙালি নানা রকম পার্বণ পালন করে আসছে। পথ চলার শুরু সেই ১৯৭৫ সাল থেকে। মাত্র ২৪ জন সদস্য নিয়ে শুরু হয়েছিল জার্নি। বছর ঘুরলে, সেটাই বাড়তে শুরু করে ধীরে ধীরে। তৈরি হয় একজিকিউটিভ কমিটি। শিশুদের নিয়ে নানা অনুষ্ঠানেরও আয়োজন রাখা হয় এই কমিটিতে।