দ্য় ওয়াল ব্যুরো: ছোট-ছোট দুই সন্তানকে নিয়ে ঘুমিয়েছিলেন মা। ভোরের দিকে গাঢ় ঘুম ভেঙে এক বার উঠেছিলেন, প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে। মশারি থেকে বেরিয়ে, বাইরে কাজ সেরে এসে, মনীষা বারদে নামের ওই তরুণী ফের ঢুকে পড়েন মশারিতেই। ভেবেছিলেন, ভোর পাঁচটা সবে, আরও একটু ঘুমোনো যাবে। এই ভেবে শুতে গিয়েই দেখেন পোষা বিড়ালটা খাটে উঠে এসেছে এই সুযোগে। মা তাকে নামাতে যান খাট থেকে। আর তখনই চমকের এক শেষ!
পোষা বিড়াল নয়, তবে বিড়ালের থেকে খুব একটা আলাদাও নয়। সে হল এক ছোট্ট চিতাবাঘের ছানা! তাঁর বাইরে যাওয়ার সুযোগে ঘর খোলা পেয়ে গুটিগুটি ঘরে ঢুকেছে। শুধু তাই নয়, লাফ মেরে চড়েও বসেছে খাটে। তবে কোনও শব্দ না করে না করে, খাটে ঘুমোনো ছোট্ট দুই শিশুর মাঝে উষ্ণতা পেয়ে, আরামে ঘুমিয়ে পড়েছে সে-ও।,
মহারাষ্ট্রের নাসিকের ধমনগাও গ্রামের এই ঘটনাটি হতেই পারত ভয়াল কোনও আক্রমণের, বা ভয় পেয়ে গিয়ে বুদ্ধি হারিয়ে ফেলার। কিন্তু এর কোনওটাই ঘটেনি। মাথা ঠান্ডা রেখে নিজের সন্তানদের আস্তে করে মশারির বাইরে বার করে নিরাপদ জায়গায় শুইয়ে রাখেন মনীষা। তাদের গায়ে আঁচড়টুকুও লাগেনি। এর পরে চিতাবাঘের ছানাটিকে এতটুকু বিরক্ত না করে, ফের ঢেকে দেন মশারি।
এর পরেই ঘরের বাইরে গিয়ে গ্রামবাসীদের সজাগ করেন মনীষা। সকলে ছুটে আসেন, ছানাটিকে বন্দি করে ফেলা হয়। খবর দেওয়া হয় বন দফতরেও। বন দফতরের আধিকারিক গোরক্ষনাথ যাদব জানান, চিতাবাঘের শাবকটির বয়স তিন মাস মাত্র। কোনও ভাবে মাকে ছেড়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে সেটি। আরাম পেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে মনীষার খাটে।
যাদব জানান, চিতা শাবকটিকে উদ্ধার করা হয়েছে৷ একটু বড় হলে, তাকে বনে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।