দ্য ওয়াল ব্যুরো: মৃত মানুষকে মুক্তি দেওয়ার উদ্দেশে ধর্মস্থানে গিয়ে পিণ্ডদানের রীতি নতুন নয়। কিন্তু যে সমস্ত সম্পর্কেরা মারা গিয়েছে, তাদের কী হবে? তাদের মুক্তি কে দেবে? এই ভেবেই পিণ্ডদানের এক নতুন রীতি তৈরি করছে একটি সংগঠন। তাদেরই উদ্যোগে বারাণসীর মণিকর্ণিকা ঘাটে অনুষ্ঠিত এক অভিনব পিণ্ডদান।
সোমবার প্রায় ৩০০ মানুষ জড়ো হয়েছিলেন ঘাটে। প্রত্যেকে একসঙ্গে পিণ্ডদান করেন গঙ্গায়। তবে কোনও পূর্বপুরুষের উদ্দেশে নয়, তাঁদের বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া সম্পর্ককে উদ্দেশ্য করে এই পিণ্ড দান করেন তাঁরা। তাঁরা বলছেন, তাঁদের বিয়ের মৃত্যু হয়েছে। সেই মৃত্যুর শান্তি কামনায় পিণ্ড দান করছেন তাঁরা। পুরো অনুষ্ঠানটির তত্ত্বাবধানে ছিলেন ১১ জন পুরোহিত।
'সেভ ইন্ডিয়ান ফ্যামিলি' সংগঠনের মুখপাত্র অনুপম দুবে জানিয়েছেন, তাঁদের সংগঠনে সারা দেশের ২০টি রাজ্যের ১০ হাজার সদস্য রয়েছেন। সকলেই তাঁদের স্ত্রীদের দ্বারা প্রতারিত। এর মাধ্যমে সমাজের প্রচলিত ধারার বিরুদ্ধে একটি কড়া বার্তা দিতে চাইছেন তাঁরা। বোঝাতে চাইছেন, বহু পুরুষ তাঁদের স্ত্রীয়ের মিথ্যে অভিযোগে সাজা পেয়েছেন, তাঁদের বিয়ে ভেঙেছে। যখনই কোনও বিয়েতে কোনও রকম জটিলতা তৈরি হয়, তখনই সমাজের পক্ষমাত থাকে মহিলার উপরে। কিন্তু বহু ক্ষেত্রেই আসল ঘটনা বিপরীত হয়। সেই প্রতারিত ও বিচ্ছিন্ন স্বামীদের পাশে দাঁড়াতেই তাদের এই উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন তিনি।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক পিণ্ডদাতা যেমন বললেন, "আমি পুণেতে বেসরকারি চাকরি করি। বিয়ের পর থেকেই গত চার বছর ধরে আমি রীতিমতো হেনস্থার শিকার আমার স্ত্রীয়ের হাতে। ও আমার বেতনের সমস্ত টাকা নিজের খুশিমতো উড়িয়েছে। আমি বাধা দিলে আমায় হুমকি দিয়েছে ফাঁসানোর। ও ডিভোর্সও দিতে চায়নি আমায়। ওর বাবা-মাও আমার কোনও কথা শোনেননি, আমার বাবা-মা রীতিমতো ভয় পেতেন ওকে।"
ওই ব্যক্তি জানান, তিনি তাঁর বিয়ের উদ্দেশে পিণ্ড দান করে সেই ভিডিও সকলকে পাঠিয়েছেন। পুলিশের কাছে আবেদনও লিখেছেন তিনি।