
শেষ আপডেট: 19 January 2020 18:30
সিডিএ-র চিফ একজিকিউটিভ অফিসার সুশান্ত নন্দা জানিয়েছেন, আগে সাতপাড়া এলাকাতেই বসতি ছিল ইরাওয়াডি ডলফিনদের। বর্তমানে চিল্কার দক্ষিণ ভাগেও দেখা মিলেছে তাদের। কালিজাই ও রম্ভা এলাকাতে ইরাওয়াডিদের বড় ঝাঁক ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে জানা গেছে। সুশান্ত নন্দা বলেছেন, ওই এলাকায় কম করেও ১৩৩-১৭২টি ডলফিন থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
বটলনোজ ডলফিনদের দেখা মিললেও ইরাওয়াডি ডলফিনদের (Irrawaddy dolphin)সংখ্যা ক্রমশ কমছিল চিল্কায়। এই ডলফিনরা দৈর্ঘ্যে ৬-৯ ফুট, ছোট নাক এবং সাঁতারও কাটে ধীর গতিতে। বঙ্গোপসাগর ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়াতে এদের খোঁজ মেলে বেশি। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন) এই প্রজাতির ডলফিনদের বিরলের তালিকাভুক্ত করেছে। ওড়িশা বন দফতর সূত্রে খবর, ২০০৩-০৪ সালে চিল্কায় ১৫টি ইরাওয়াডি ডলফিনের মৃত্যুর খবর মিলেছিল, ২০০৪-০৫ সালে ১১টি ডলফিনের মৃত্যুর খবর সামনে আসে। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছিল, ২০০৬-০৭ সালের মধ্যে ৪০ শতাংশ ডলফিনের মৃত্যু হয় বোটের আঘাতে।
২০০৯ সালে ডলফিনকে ‘ন্যাশনাল অ্যাকোয়াটিক অ্যানিম্যাল অব ইন্ডিয়া’র মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল। দেখা গেছে, জাহাজ, স্টিমারের চড়া শব্দ, মানুষের কোলাহল, শব্দদানবের অত্যাচারে ডলফিনদের অস্তিত্বই বিপন্ন। জলের দূষণ, জেলের জাল, নদীর বাঁধ ও মানুষের অত্যাচার— এই চারের সাঁড়াশি আক্রমণে বিলুপ্তির খাতায় নাম লিখিয়ে ফেলেছে শুশুকরা। গবেষকরা বলছেন, বর্জ্য ও জলজ যানের কর্কশ আওয়াজে নিজেদের মধ্যে তরঙ্গের জাল বিছিয়ে কথোপকথন চালাতে পারছে না ডলফিনরা। তাদের শব্দের তরঙ্গে দাঁত বসাচ্ছে জলজ যানের তীক্ষ্ণ আওয়াজ। ফলে দিক নির্ণয় করতে না পেরে অধিকাংশই পথ হারাচ্ছে। ঠোক্কর খেতে খেতে কেউ ভিড়ছে অজানা চরে, আবার কেউ ধাক্কা খাচ্ছে জাহাজের নোঙরে। ফল ভয়ঙ্কর মৃত্যু।
সিডিএ-র আধিকারিকরা বলছেন, চিল্কায় কয়েকবছর ধরেই হাইড্রোফোন মনিটরিং চলছে। ডলফিনদের গতিবিধি ট্র্যাক করার কাজ চলছিল। তাতেই দেখা গেছে ডলফিনদের সংখ্যা বেড়েছে চিল্কায়। উড়ে এসেছে পরিযায়ীরাও। চলতি মাসের প্রথমে ১৮৪টি প্রজাতির ১১ লক্ষ পাখিও দেখা গেছে চিল্কায়।