দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধুমেহ কিন্তু মোটেই মধুর নয়। বিশ্ব জুড়ে রীতিমতো দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এই সাইলেন্ট কিলার। টাইপ-ওয়ান, টাইপ-টু ডায়াবেটিসের গেরোয় নাকানিচোবানি খাচ্ছে কিশোর থেকে বৃদ্ধ। নিঃশব্দ ঘাতক কখন নিঃশব্দেই থাবা বসাবে সেটা জানা বড় দায়। তাই সতর্কতা দরকার সব স্তরেই। ডায়াবেটিস নিয়ে সচেতনতার প্রসারে এগিয়ে এসেছে দিশা আই হসপিটালও।
রক্তে মাত্রাতিরিক্ত শর্করা ক্ষতি করে চোখেরও। ডায়াবেটিস রেটিনোপ্যাথির প্রভাবে ক্ষীণ হযে আসে দৃষ্টিশক্তি। ডায়াবেটিস রেটিনোপ্যাথির কুপ্রভাব থেকে সার্বিক মুক্তির উপায় বাতলাতে মঙ্গলবারই একটি আলোচনা সভার আয়োজন করেছিল দিশা। সিনিয়র কনসালটেন্ট এবং রেটিনা সার্ভিসের প্রধান তুষারকান্তি সিনহার উদ্যোগ ও পরিচালনায় এই আলোচনা সভায় অংশ নিয়েছিলেন অনেকে। আজ, ১৪ নভেম্বর বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবসের দিন থেকেই পথ চলা শুরু হল দিশার ডায়াবেটিস আই স্ক্রিনিং ক্লিনিকের। এটি মূলত একটি সচেতনতামূলক কর্মশালা। ২১ নভেম্বর পর্যন্ত ব্যারাকপুর, দুর্গাপুর, শেওড়াফুলি, বারাসত, সিঁথি, তেঘোরিয়া, বেহালা, গড়িয়াহাট, বহরমপুর, বর্ধমান, মৌরিগ্রাম ও শিলিগুড়িতে চলবে এই কর্মশালা।
রক্তে শর্করা বা সুগারের নির্দিষ্ট মাত্রা রয়েছে। ডায়াবিটিস বা মধুমেহ হল রক্তে শর্করার পরিমাণ সেই নির্দিষ্ট মাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়া।এই রোগ কেন হয়, এক কথায় বলা খুব মুশকিল। এটা সাধারণত নির্ভর করে কী ধরনের ডায়াবিটিস হয়েছে তার উপরে। সারা বিশ্বে ৯০-৯৫ শতাংশ টাইপ-টু প্রকারের ডায়াবিটিস হয়। এই ধরনের ডায়াবিটিস হওয়ার কারণ অনেকগুলি। যেমন, অনিয়ন্ত্রিত ও অনিয়মিত খাদ্যাভাস, অলস জীবনযাপন, স্থূলতা, নেশা ইত্যাদি। এই বিষয়গুলির যে কোনও একটি বা একসঙ্গে রক্তের শর্করার মাত্রা বাড়াতে পারে।
টাইপ টু ডায়াবিটিসে ভুগছেন প্রায় ৭ কোটি ভারতবাসী। মেয়েদের মধ্যে ডায়াবিটিসের প্রবণতা ভয়ানক ভাবে বাড়ছে। বিশ্বের প্রায় ২০ কোটি মহিলার রক্তে শর্করার আধিক্য। সাধারণত মধ্যবয়সীদের (৪০ ঊর্ধ্বে) টাইপ-টু ডায়াবিটিস হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ভারতীয়দের ক্ষেত্রে এই রোগ ৩০ বছর বয়স থেকেই হতে পারে। আর টাইপ-ওয়ান ডায়াবিটিস ১০-১৪ বছর বয়সীদের হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
ডায়াবেটিস রেটিনোপ্যাথি কী?
রেটিনা চোখের সবচেয়ে সংবেদনশীল পর্দা। আলোকরশ্মি চোখের ভিতর ঢুকে এই রেটিনায় প্রতিফলিত হয়েই দৃশ্যমানতা তৈরি করে। রেটিনার সামান্য ক্ষতি চোখের ভয়ানক বিপদ ডেকে আনতে পারে।
চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের কারণেই ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি হয়। রক্তশূন্যতা বা অক্সিজেনের অভাবে রেটিনার সূক্ষ্ম রক্তনালিকাগুলো বন্ধ হয়ে যায়। কখনও আবার রক্তনালির মধ্যে জল বা তেলজাতীয় পদার্থ জমে গিয়ে ফোলা অংশ তৈরি হয়। সেখানে রক্ত জমাট বেঁধে চোখে জ্বালা-যন্ত্রণা হয়, আবার কখনও রক্তনালিতে ছিদ্র তৈরি হয়ে সেখান থেকে রক্ত চুঁইয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে। আবার কখনও দেখা যায়, রক্তনালি ফেটে গিয়ে চোখের সাদা অংশে বা মণির মাঝখানে জমাট বাঁধা রক্তের পিণ্ড তৈরি করে। ফলে আলোকরশ্মি চোখে ঢুকতে বাধা পায়। ধীরে ধীরে ঝাপসা হয়ে আসে দৃষ্টিশক্তি।