দ্য ওয়াল ব্যুরো: আর পাবে গিয়ে আকণ্ঠ পান করে টলতে টলতে বাড়ি ফিরতে হবে না। নেশার চোখ মেলে রাস্তা ঠাওর করে গাড়ি চালানোর দিনও শেষ। কারণ, পিৎজার মতো এ বার বাড়িতে বসেই অর্ডার দিতে পারবেন মদের যে কোনও ব্র্যান্ড। সে দেশি হোক বা বিদেশি, চোখের পলক ফেলতেই দোরগোড়ায় হাজির করবে ডেলিভারি বয়। না স্বপ্ন নয়, বরং এমনটাই চালু করতে চলেছে মহারাষ্ট্র সরকার।
রাজ্যের আবগারি মন্ত্রী চন্দ্রশেখর বাওয়ানকুলের কথায়, সব্জি, মাছ-মাংস বা মণিহারি জিনিসের মতো এ বার মদও বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করার কথা ভাবছে মহারাষ্ট্র সরকার। অর্থাৎ মদের হোম ডেলিভারি। নয়া ব্যবস্থা চালু হলে সেটা নজিরবিহীন হবে গোটা দেশেই। কারণ এমন ডেলিভারি আগে না কখনও হয়েছে, না কখনও কেউ শুনেছে।
তবে বাণিজ্যিক লাভ নয়, বরং মদ খেয়ে গাড়ি চালাতে গিয়ে রাজ্যে যে ভাবে পথ দুর্ঘটনা এবং সেই সংক্রান্ত মৃত্যু লাগাম ছাড়াচ্ছে, তাতে রাশ টানতেই এই ভাবনা। চন্দ্রশেখর বলেছেন, "এর উদ্দেশ্য একটাই। পথ দুর্ঘটনায় লাগাম পরানো। কারণ বিগত কয়েক বছরে মদের নেশায় গাড়ি চালাতে গিয়ে রাজ্যে পথ দুর্ঘটনা অনেক বেড়েছে। সেই সঙ্গে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে এবং বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। তাই মদ পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা হবে বাড়িতেই।" জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ই-কমার্স ওয়েবসাইটগুলির মাধ্যমেই অর্ডার দেওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন আবগারি মন্ত্রী। তবে তারও একটা নিয়ম আছে। সে ক্ষেত্রে ২১ বছর বয়সীরা অর্ডার দিলে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে বিয়ার। আর বয়স যদি ২৫ বছর বা তার বেশি হয়, তাহলে অর্ডার মতো বাড়িতে পৌঁছে যাবে দেশি বা বিদেশি যে কোনও ব্র্যান্ড।
অর্ডার নেওয়ার আগে কড়া নজরে খতিয়ে দেখে নেওয়া হবে গ্রাহকের বয়স ও পরিচয়। সে ক্ষেত্রে প্রত্যেক গ্রাহককে একটা ছোটখাটো বায়োডাটা জমা দিতে হবে। সেখানে থাকবে নাম, বয়স, আধার নম্বর-সহ অন্যান্য তথ্য।
বর্তমান প্রজন্ম পাব এবং নাইট ক্লাবেই বেশি স্বচ্ছন্দ। বিনোদনের সবরকম পসরাই সাজিয়ে রেখেছে রাজ্য। ফলে নেশার বাড়বাড়ন্ত। সেই সঙ্গে নিয়ম ভেঙে মদ খেয়েই চলছে ড্রাইভিং। বাড়ছে পথ দুর্ঘটনা। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো (এনসিআরবি)-র পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, ২০১৫ সালের পর থেকে এই সংক্রান্ত দুর্ঘটনা অনেক বেড়েছে। যে ৪ লক্ষ ৬৪ হাজার পথ দুর্ঘটনা ঘটেছিল, তার দেড় শতাংশই ঘটেছিল মদ খেয়ে গাড়ি চালানোর জন্য। আইনের ভাষায় যাকে বলা হয় 'ড্রাগ ড্রাইভিং'। রিপোর্ট বলছে, ওই বছর মদ খেয়ে গাড়ি চালাতে গিয়ে দিনে গড়ে ৮ জনেরও বেশি পথ দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মারা গিয়েছিলেন।
আবগারি মন্ত্রী চন্দ্রশেখরের কথায়, "‘যেখান থেকে ও যেখানে মদের ডেলিভারি হবে, সেই গোটা পথের ওপর থাকবে সরকারি নজরদারি। যাতে পাচার বা চোরাচালান না হয়। কেউ সেই মদের বোতলের সিল ভাঙতে না পারে। তার জন্য মদের বোতলের মুখে একটা বিশেষ ধরনের ট্যাগিং থাকবে।"
মদের এই হোম ডেলিভারির সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই সপক্ষে ও বিপক্ষে মত দিতে শুরু করেছেন অনেকেই। মহারাষ্ট্র সরকারের এই পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছে আইনজীবী মহলের একাংশ। তাঁদের মতে, এই ব্যবস্থায় যেমন পথ দুর্ঘটনা কমবে, তেমনি বহু লোকের চাকরিও হবে। তবে, সরকারের এই সিদ্ধান্তে একেবারেই খুশি নন সমাজকর্মী পারমিতা গোস্বামী। তাঁর মতে, এই পদ্ধতি একেবারেই অসাংবিধানিক। এতে তরুণ প্রজন্মের মদের প্রতি আসক্তি অনেক বাড়বে।