দ্য ওয়াল ব্যুরো: যুবকের অন্তর্বাসের ভিতর প্যাকেটবন্দি থকথকে হলুদ রঙের পদার্থ দেখে প্রথমে নাক সিঁটকেছিলেন কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনীর (সিআইএসএফ) জওয়ানেরা। পরে ঠাওর করে দেখা গেল মল তো নয়, এ আসলে সোনা? গলিয়ে পেস্ট বানিয়ে অন্তর্বাসের ভিতরে করে পাচারের চেষ্টা চালাচ্ছিলেন যুবক। বিমানবন্দরে তাঁকে হাতে নাতে পাকড়াও করেন সিআইএসএফ জওয়ানেরা। উদ্ধার হয় প্রায় ২০ লক্ষ টাকার সোনা।
ঘটনা দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের। সিআইএসএফ সূত্রে খবর, কেতাদুরস্ত পোশাক পরা যুবককে দেখে সন্দেহ হওয়ার অবকাশ নেই। দুবাই থেকে দিল্লি হয়ে মুম্বই যাওয়ার তালে ছিল যুবক। বিকেল সাড়া ৪টে নাগাদ, টার্মিনাল ১ থেকে ফের বিমানে চাপার আগে রুটিনমাফিক তল্লাশিতেই ধরা পড়ে যান তিনি। মেটাল ডিটেক্টর জানান দেয়, যুবকের শরীরের মধ্যেই রয়েছ ধাতব কোনও জিনিস। আড়ালে সরিয়ে নিয়ে গিয়ে তাঁর তল্লাশি চালান জওয়ানেরা।
৬৫০ গ্রামের একটি প্যাকেট ভালো করে মুড়ে সেলোটেপ আটকে প্যান্টের ভিতর অন্তর্বাসে পুরে নিয়েছিলেন যুবক। সিআইএসএফের এক শীর্ষ আধিকারিকের কথায়, "কোমরের নীচের অংশে কোনও ধাতব বস্তু রয়েছে এমনটাই জানান দিয়েছিল মেটাল ডিটেক্টর। প্রথমে মুখ খুলতে চাননি যুবক। পরে জওয়ানদের তল্লাশি করতে দেন। একটি পাউচের ভিতর ঠাসা ছিল গলিত সোনা যার বাজার দর ২০ লক্ষ টাকার কাছাকাছি।" প্রথমে মানুষের বর্জ্য মনে হলেও পরে এক্স-রে করে দেখা যায় পদার্থটি রশ্মির নীচে নীল রঙের দেখাচ্ছে। সাধারণত সোনা বা এমন কোনও ধাতুর রঙই এক্স-রে রশ্মিতে এমন রঙের দেখায়।
বিমান পরিবহণকে ব্যবহার করে সোনা পাচার, ড্রাগ পাচার ও বিস্ফোরণ ঘটানোর প্রবণতা সারা বিশ্ব জুড়েই বেড়ে চলেছে। ভারতেও বিভিন্ন বিমানবন্দর দিয়ে ড্রাগ ও সোনা পাচারের চেষ্টার খবর প্রায়শই সামনে আসে। কখনও খাদ্যনালীতে আবার কখনও পায়ু পথে সোনা বা ড্রাগ পাচারের চেষ্টা হচ্ছে। পাচার কাজ সহজে চালানোর জন্য নিত্য নতুন কৌশল বার করছে পাচারকারীরা। সিআইএসএফ-এর সহকারি ইনস্পেক্টর জেনারেল হেমেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, যুবককে আটক করা হয়েছে। পরবর্তী তদন্তের জন্য আবগারি দফতরের কর্তাদের খবর দেওয়া হয়েছে।