দ্য ওয়াল ব্যুরো: লন্ডনের আদালতে দাঁড়িয়ে ফের বোমা ফাটালেন লিকার ব্যারন বিজয় মাল্য। আগে তাঁর দাবি ছিল ভারতের জেলের অবস্থা ভাল নয়, সেখানে থাকতে চান না তিনি। এ বার জানালেন ২০১৬ সালে দেশ ছাড়ার আগে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন তিনি। জেনিভায় একটি বৈঠকে যোগ দিতে যাওয়ার আগে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে ঋণ শোধের ব্যাপারে নিজের প্রস্তাবও নাকি জানিয়েছিলেন তিনি।
অর্থমন্ত্রীর নাম করেননি মাল্য। তবে ৬২ বছরের লিকার ব্যারনের বিবৃতির পর চূড়ান্ত অস্বস্তিতে নরেন্দ্র মোদী সরকার। তড়িঘড়ি ফেসবুকে বিবৃতি দিয়ে অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি জানিয়েছেন, মাল্য রাজ্যসভার সাংসদ থাকাকালীন তাঁর সঙ্গে একবার দেখা করেছিলেন বটে। কিন্তু ঋণ শোধের ব্যাপারে কোনও ফয়সালা হয়নি। জেটলির কথায়, ‘‘বিজয় মাল্যের ভাঁওতায় কান দেবেন না।’’
https://twitter.com/RahulGandhi/status/1039917083851726848
ললিত মোদী, নীরব মোদী, বিজয় মাল্যদের দেশ ছেড়ে পালাতে সাহায্য করার অভিযোগে নরেন্দ্র মোদী সরকারকে বার বার কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন বিরোধীরা। সম্প্রতি মাল্যের বক্তব্য সেই অভিযোগে নতুন করে অক্সিজেন যুগিয়েছে। টুইটারে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী বলেছেন, ‘‘লন্ডনে বিজয় মাল্য গুরুতর অভিযোগ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর উচিত এই বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করা। আর তদন্ত চলাকালীন অরুণ জেটলির অর্থমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানো উচিত।’’
https://twitter.com/rssurjewala/status/1039864656389660672
মাল্যের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্যাঙ্কের পাওনার পরিমাণ ৯০০০ কোটি টাকা। ইতিমধ্যে লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে চলছে তাঁর প্রত্যর্পণ নিয়ে শুনানি। মাল্যের দাবি, ১৫ হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি বিক্রি করে পাওনা মিটিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। কিন্তু, মাল্যের দাবি মানতে নারাজ অর্থমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ২০১৮ সালে অর্থমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে তিনি আর মাল্যের সঙ্গে দেখা করেননি। তবে, মাল্য রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন। সেই সুযোগের অপব্যবহার করেই তিনি একবার তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন।
https://twitter.com/SitaramYechury/status/1039877667087179777
https://twitter.com/yadavtejashwi/status/1039865867268501505
অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ‘‘সংসদ কক্ষ থেকে বেরিয়ে আমার ঘরে যাচ্ছিলাম। উনি তড়িঘড়ি কাছে এসে জানান, পাওনা মেটাতে একটা প্রস্তাব দিতে চান। ওনার এসব ভাঁওতার সঙ্গে আমি আগেই পরিচিত ছিলাম। স্পষ্ট না করে দি। বলে দিই, আপনি ব্যাঙ্কের সঙ্গে কথা বলুন। ওনার কোনও নথিপত্রও নিইনি আমি।’’
মাল্যের মন্তব্যের পরে বিরোধীদের আক্রমণের মুখে অস্বস্তিতে পড়েছে বিজেপি। মালিয়ার বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর কংগ্রেসের দাবি হাজার হাজার কোটি ঋণ বাকি থাকা মালিয়াকে দেশ ছাড়তে দেওয়া হল কোন যুক্তিতে? টুইট করে এমন কথাই জানিয়েছেন কংগ্রেস মুখপাত্র রণদীপ সুরজেওয়ালা। মাল্যের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। সমালোচনায় সরর হয়েছেন লালু-পুত্র তেজস্বী যাদবও।