
শেষ আপডেট: 22 December 2023 16:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো, বীরভূম: পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিন রামপুরহাটে পিটিয়ে খুন করা হয়েছিল এক সিপিএম কর্মীকে। সেই ঘটনায় অভিযুক্ত ১২ জন তৃণমূল কর্মীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা শোনাল রামপুরহাট আদালত। রায়ে খুশি মৃতের পরিবার।
২০১৩ সালের ২৩ জুলাই পঞ্চায়েত নির্বাচনের পরের দিন রামপুরহাট থানার সইপুর গ্রামে আক্রান্ত হয়েছিলেন স্থানীয় সিপিএম নেতা হুমায়ুন মীর(২৮)। অভিযোগ তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা বাঁশ, লাঠি দিয়ে এলোপাথাড়ি মারধর করে তাঁকে। গুরুতর জখম অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় পাঠানো হয় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে ২৪ জুলাই মৃত্যু হয় তাঁর।
হুমায়ুনের মৃত্যুর খবর আসতেই সাড়া পড়ে যায় গ্রামে। ওইদিনই রামপুরহাট থানায় ১৪ জনের বিরুদ্ধে দাদাকে খুনের অভিযোগ দায়ের করেন হুমায়ুনের বোন জেসমিনা খাতুন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়। রামপুরহাট মহকুমা আদালতে চলতে থাকে মামলা। মামলা চলাকালীন দুই অভিযুক্তের মৃত্যু হয়। গত ২০ ডিসেম্বর রামপুরহাট আদালতের বিচারক গুরুদাস বিশ্বাস ১২ জন অধিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেন। আজ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা শোনাল হল তাঁদের।
রায়ের পর হুমায়ুনের পরিবারের সদস্যরা বলেন, “দশবছর অপেক্ষার পর অবশেষে বিচার পেলাম আমরা। নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছিল ওকে। দোষীদের ফাঁসি হলে আরও ভাল হত। তবে এই রায়েও আমরা খুশি।”একইসঙ্গে তাঁরা জানান, ১২ জন তৃণমূল কর্মীর যাবজ্জীবন হওয়ায় তাঁরা নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন। বাড়ি গেলেই তাঁদের উপর হামলা হতে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা। কারণ সাজা ঘোষণার পরেই তাঁদের নানাভাবে ভয় দেখানো হচ্ছে।