
শেষ আপডেট: 11 October 2018 18:30
পঞ্চমীতে প্রতিমাকে সাজানো থেকে ষষ্ঠীর বোধন, বঙ্গললনাদের সঙ্গে পুজোর কাজে হাত লাগান জার্মান বন্ধুরাও। সপ্তমীর সকালে নবপত্রিকা স্নানের পর পুষ্পাঞ্জলি। সন্ধ্যা আরতিতে ঢাকের তালে তালে পা মেলান আট থেকে আশি। কলকাতার সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ১০৮ বাতি জ্বালিয়ে হয় সন্ধিপুজোও। থালা সাজিয়ে সবাই মিলে চন্দন বাটা, মালাগাঁথা থেকে পুজোর মন্ত্রপাঠ— কোথায় যেন কলকাতা এবং ডুসেলডর্ফ মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। চণ্ডীপাঠে ভেসে আসে বাংলার সোঁদা মাটির গন্ধ।
এই পুজোয় ভোগের একটা বিশেষত্ব আছে। সারা বছর প্যাকেট বন্দি নুডলস, স্যান্ডউইচ খেয়ে যাঁরা ক্লান্ত তাঁদের জন্য ভোগের মেনু একেবারে বাঙালি স্বাদে ভরপুর। প্রবাসী বাঙালি যাঁরা মুচমুচে লুচি ও মিষ্টি মিষ্টি ছোলার ডালের স্বাদ প্রায় ভুলতে বসেছেন তাঁদের জন্য ভোগের থালায় অষ্টমীর সকালে ফুলকো লুচির সঙ্গে ছোলার ডাল ও আলুরদম, নবমীর দুপুরে খিচুড়ি, বেগুনভাজার পর্ব মিটলে রাতে গরম ভাতের সঙ্গে কচি পাঁঠার ঝোল। দশমীতে পোলাও, মাছের কালিয়া, পাঁপড় ভাজায় জমজমাট হয়ে ওঠে পুজো।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও বেশ জমকালো। সপ্তমীর সন্ধেয় সেতার ও তবলার যুগলবন্দি শুনতে দূর দূর থেকে মানুষজন আসেন। অষ্টমীর আকর্ষণ ওড়িশি নাচ, নবমীর সন্ধ্যা মেতে ওঠে রবীন্দ্রনৃত্য এবং ঢাক-তবলার ফিউশনে। দশমীতে পুজো প্রাঙ্গণে রঙিণ গরবা নাচ।
শুধু অর্পন নন, ওখানকার সমস্ত বাঙালিরাই বিশ্বাস করেন, মায়ের আগমনের সঙ্গে সেজে ওঠে ডুসেলডর্ফের প্রকৃতিও। গোধূলির আকাশে সোনালী রঙ ধরে। বিসর্জনের পর কোলাকুলি, মিষ্টিমুখের সঙ্গে কোথাও যেন একটা চিনচিনে ব্যথা মনকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। আবারও এক বছরের প্রতীক্ষা। খালি মণ্ডপে বিসর্জনের ঢাক বাজে, চোখ সজল হয়ে ওঠে সবার।