দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'পুরুষ মানেই নারী লোলুপ নয়', ্#MeToo ঝড়ে কাহিল বলিউডে এ বার গর্জে উঠলেন পূজা ভট্ট। পুরুষ মানেই কামতাড়িত, যৌন আগ্রাসী তেমনটা একেবারেই নয়। আবার নারী মানেই সে নির্যাতনের শিকার তেমনটাও নয়। কেন শুধুই কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে বলিউডকে? একের পর এক ধাক্কায় বি-টাউন যখন বিধ্বস্ত, বিপর্যস্ত, তখন এমন করেই আন্দোলনের ভাষায় নতুন সুর যোগ করলেন অভিনেত্রী, চিত্র নির্মাতা, পরিচালক পূজা ভট্ট।
পাশ্চাত্যের পর দেশে #মি টু নিয়ে আলোড়ন ওঠে অভিনেতা নানা পটেকরের বিরুদ্ধে তনুশ্রী দত্তর মুখ খোলার পর থেকে। শুধু সেলেব-হেভিওয়েট নয়, এই সুনামি আছড়ে পড়েছে সর্বত্র। যাত্রাপথ থেকে হোটেল, অফিস থেকে জন্মদিনের পার্টি, বিমান থেকে বেডরুম। নানা পটেকরের পরে কাঠগড়ায় উঠেছেন বিকাশ বহেল, চেতন ভগত, সাংবাদিক এম জে আকবর, 'সংস্কারি অভিনেতা' অলোক নাথের মতো অনেকেই। হালে নাম জড়িয়েছে গায়ক অভিজিৎ এবং ক্রিকেটার রণতুঙ্গারও।
স্বভাবতই এই আন্দোলন নিয়ে একদল সপক্ষে, অন্যদল বিপক্ষে। তবে, বরাবরই ঠোঁট কাটা পূজা কোনও পক্ষেরই ধার ধারেন না। অকপটে মিডিয়ার সামনে সাবলীল ভাষায় #মি টু নিয়ে কথা বলতে গিয়ে একের পর এক ছক্কা হাঁকিয়েছেন। নানার বিরুদ্ধে তনুশ্রীর অভিযোগ প্রসঙ্গে নিজের মত জানাতে গিয়ে পূজা বলেছেন, "শুধুমাত্র পুরুষেরাই কামুক হয় এমনটা কে বলেছে? দোষারোপ করার আগে ভেবে দেখা উচিত মহিলারাও এই দোষে দুষ্ট হতে পারেন। সব পুরুষকে একই দাঁড়িপাল্লায় ফেলে মাপা ঠিক নয়।
সেই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, যেখানে শক্তি বা ক্ষমতা প্রদর্শনের ব্যাপার থাকে সেখানে এই ধরণের ঘটনা ঘটতেই পারে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, সাফল্যের শিখর ছোঁয়ার জন্য মহিলারাও নিজেদের ব্যবহার করে থাকেন। শুধু ফিল্মি দুনিয়া নয়, স্কুল, কলেজ, অফিস থেকে মিডিয়া, রাজনীতি সব জায়গাতেই এই ঘটনা নিরন্তর ঘটছে, এবং ঘটে চলেছে।
"আমি তো এমন অনেক মহিলাকেই চিনি যাঁরা শুধু নাম আর পয়সার জন্য ক্ষমতাবান মানুষদের বিয়ে করেছেন, " মন্তব্য পূজার। তাঁর মতে, যৌন হেনস্থার অপবাদ শুধু একজন পুরুষকেই কুড়ে কুড়ে খায় তা নয়, তাঁর গোটা পরিবারের সম্মানহানি করে। এমনও দেখা গেছে অভিযোগ ওঠার পরেও সেটা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু, কালি একবার গায়ে লাগলে সেটা তোলা মুশকিলই নয়, অনেকক্ষেত্রেই দুঃসাধ্য।