
শেষ আপডেট: 11 August 2018 13:35
জামদানি ফারসি শব্দ। পারস্য দেশে এক প্রকার উৎকৃষ্ট সুরার নাম জামা। জামা থেকে জাম। দানি অর্থ পাত্র। জামদানি অর্থ সুরার পাত্র। মোঘল আমলে মসলিন থেকে উদ্ভাবিত জামদানি কাপড় এখনও দাপিয়ে চলছে। মূলত মসলিনের নকশা করা কাপড়কেই জামদানি বলা হয়। আগে নকশা তৈরির কাজে ব্যবহার হতো সোনা ও রুপোর সূক্ষ্ম সুতো। বর্তমানে সোনা ও রুপোর পরিবর্তে ব্যবহার করা হয় নানা রঙের কৃত্রিম জরির সুতো। জামদানিকে নকশার কাপড় বলা হয়। জ্যামিতিক ডিজ়াইনে জামদানির নকশা করা হয় বলে সব কিছু নির্ভুল হয়ে থাকে। কাপড়ের ডিজ়াইন যত বেশি ও ভারী, তার দামও তত বেশি। ডেমরার জামদানির হাটে ২-৫ হাজার টাকা দামের জামদানি শাড়ি বেশি বিক্রি হয়ে থাকে। পকেট ভারী থাকলে ৩০ হাজার টাকা দামেরও শাড়ি কিনতে পারবেন জামদানি হাটে। সে সব শাড়ি বুনতে ৩-৬ মাস সময় লেগে যায়। তাই দামও অনেক বেশি পড়ে।
ডেমরার সুলতানা কামাল সেতুর পাশ দিয়ে নোয়াপাড়ার দিকে যেতে যেতে কাউকে জামদানি হাটের কথা বললেই তিনিই আপনাকে দেখিয়ে দেবেন সেই হাট। ডেমরার সুলতানা কামাল সেতু পার হয়ে বাঁ দিকের রাস্তা ধরে হাঁটতে শুরু করলেই কানে আসবে তাঁত কলের আওয়াজ। বিখ্যাত জামদানির হাট চলে ভোর থেকে বিকাল পর্যন্ত। তাঁত চলার গতির দ্বিগুণ গতিতে বিক্রি হয় হাটের জামদানি শাড়ি। ডেমরা পার হয়ে হাট শুরু হয় ভোর চারটেয়। শাড়ি কিনুন, ফেরার পথে শীতলক্ষ্যা নদীতে এক দফা নৌকা ভ্রমণ করুন ও সুলতানা কামাল সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে সকালের শীতল পরশ নিয়ে গন্তব্যে রওনা দিন।
কী ভাবে যাবেন: ঢাকা থেকে যে কোনও ভাবে বনশ্রী এসে, লেগুনা, সিএনজি এবং বাসে করে যেতে পারবেন ডেমরায়। আর যাঁরা নিজের গাড়িতে যাবেন, তাঁরা বনশ্রী মেন রোড দিয়ে বা ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার হাইওয়ে দিয়ে পৌঁছতে পারেন ডেমরায়, তার পরে পথচলতি কাউকে জিজ্ঞেস করলেই তিনি দেখিয়ে দেবেন।