দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিন কয়েক আগেই করোনাকে হারিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছিলেন দিল্লির এক বৃদ্ধ। ১০৬ বছরের সেই বৃদ্ধের করোনাজয়ের কাহিনি ছেয়ে গিয়েছিল সংবাদমাধ্যমে। জানা গেছিল, তিনি স্প্যানিশ ফ্লুয়েও আক্রান্ত হয়েছিলেন ১৯১৮ সালে। এবার তাঁরই পরে নাম লেখালেন মহারাষ্ট্রের আরও এক বৃদ্ধা। তিনিও ১০৬ বছর বয়সেই করোনা থেকে সেরে উঠে বাড়ি ফিরলেন হাসিমুখে। তবে স্প্যানিশ ফ্লু এই বৃদ্ধার কোনও ক্ষতি করেছিল কিনা তা জানা যায়নি।
ঠাণের বাসিন্দা ওই বৃদ্ধার হাতে ডিসচার্জ সার্টিফিকেট-সহ হাসিমুখের ছবি আজ ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়। রবিবারই হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন তিনি। সঙ্গে নিয়ে এসেছেন চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রাণভরা শুভেচ্ছা। তাঁর বাঁচার ইচ্ছাশক্তি মুগ্ধ করেছে সকলকে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এতটা বয়স হলেও তিনি কর্মক্ষম ছিলেন। ডোম্বিভালি এলাকায় একটি ক্যান্টিন চালাতেন। সে জন্যই হয়তো মাত্র ১০ দিনেই সেরে উঠেছেন তিনি। বৃদ্ধার পরিবার জানিয়েছে, করোনা ধরা পড়ার পরে প্রায় কোনও হাসপাতালই ভর্তি নিতে চাইছিল না তাঁকে। এতটা বয়সে ভর্তি করা বা না করা সমান বলেই জানিয়ে দিচ্ছিলেন সকলে। এক কথায়, হাল ছেড়ে দেওয়া পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।
শেষমেশ ডোম্বিভালি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের স্পোর্টস কমপ্লেক্সে করোনা রোগীদের জন্য যে ব্যবস্থা করা হয়েছিল সেখানেই ভর্তি করা হয়েছিল বৃদ্ধাকে। সেখানে 'এক টাকার ক্লিনিক’ চালান ডক্টর রাহুল ঘুলে। সেখানকার ডাক্তার ও নার্সদের যত্নেই যেন নবজন্ম হল বৃদ্ধার। ডক্টর রাহুল ঘুলে ও তাঁর টিমের হাসপাতালের প্রতি কৃতজ্ঞ বৃদ্ধার পরিবার।
https://twitter.com/DrRahulGhule11/status/1307569058254970880
ডক্টর রাহুল ঘুলে জানিয়েছেন, জুলাই মাসের ২৭ তারিখে এই ক্লিনিক খোলা হয়েছিল। এখনও পর্যন্ত ১১০০ কোভিড রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন তাঁদের ক্লিনিকে।
প্রবীণরাও যে করোনার সঙ্গে লড়াইয়ে জয় পাচ্ছেন তার নজির আগেও দেখা গিয়েছে। কয়েক মাস আগেই ১১৪ বছর বয়সে কোভিডকে হারিয়েছেন এক সন্ত। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পরেও সুস্থ হয়ে ওঠে ইথিওপিয়ার এক ধর্মগুরু। তিন সপ্তাহ হাসপাতালে থাকার পরে তিনি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন, তিনি এখন আগের চেয়েও বেশি ভাল আছেন। ইথিওপিয়ার এই ধর্মগুরুর নাম তিলাহুন উলডেমাইকেল। স্পেনেও করোনা জয় করেন ১০৭ বছরের এক বৃদ্ধা।