.webp)
অপারেশনের পর চিকিৎসকের সঙ্গে বাবলু দে।
শেষ আপডেট: 27 June 2024 16:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এভাবেও ফিরে আসা যায়!
এমার্জেন্সিতে বছর পঞ্চাশের বাবলু দে'র শারীরিক অবস্থা দেখে চমকে উঠেছিলেন আর জি করের চিকিৎসকরা। কবজিতে পালস নেই! ব্রেনে রক্ত সরবরাহকারী ক্যারোটিড ধমনি থাকে গলার কাছে। সেখানেও হাত দিয়ে পালস পেলেন না চিকিৎসকরা। অবশেষে কুঁচকির কাছে মৃদু পালস পেলেন।
জেলা হাসপাতাল থেকে রোগীকে রেফার করা হয়েছে। কিছুটা ঝুঁকি নিয়েই ভর্তি করে নিলেন। এসব ক্ষেত্রে রোগীকে ভর্তি করার পরই অ্যাঞ্জিওগ্রাম করতে হয়। রিপোর্টে দেখা গেল, বাবলুবাবুর চারটে ধমনির প্রায় ১০০ শতাংশ ব্লক! একটি হার্টে, দুটি ব্রেনে এবং অন্যটি দু’হাতে রক্ত সরবরাহকারী ধমনিতে।
আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের হৃদরোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ শুভ্র চক্রবর্তী বলেন, "এরকম ঘটনা বিরল! চারটে ধমনীর ১০০ শতাংশ ব্লক হওয়ার পরও উনি কীভাবে বেঁচেছিলেন, সেটা ভেবেই আমরা স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলাম। একেবারে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ যাকে বলে। যেকোনও মুহূর্তে অঘটন ঘটতে পারত।"
পরিস্থিতি বিপজ্জনক আন্দাজ করে দ্রুত রোগীকে নিয়ে ওটিতে ঢুকে পড়েন শুভ্র চক্রবর্তীর নেতৃত্বে মেডিক্যাল বোর্ড। রোগীর শরীরে একটার পর একটা স্টেন্ট লাগানোর কাজ শুরু হয়। কিছুক্ষণ পরই চিকিৎসকরা বুঝতে পারেন রোগী সাড়া দিচ্ছেন। ধীরে ধীরে খুলতে শুরু করেছে বন্ধ হয়ে যাওয়া ধমনিগুলি। ফিরে আসে কবজি এবং গলার পালসও।
আপাতত বিপদমুক্ত ইছাপুরের বাবলু দে। তাঁর ছেলে অতনু দে বলেন, "ডাক্তারবাবুরা সাক্ষাৎ দেবদূত, তা না হলে বাবাকে হয়তো ফিরে পেতাম না। কল্যাণী এইমস, সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজ হয়ে বাবাকে যখন আর জি করে আনছিলাম তখনই চিকিৎসকরা বলেছিলেন, পরিস্থিতি অত্যন্ত সঙ্কটজনক, যেকোনও মুহূর্তে খারাপ কিছু ঘটে যেতে পারে।"