দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত ১১ জুলাই হরিয়ানার সিরসায় ডেপুটি স্পিকার রণবীর গাঙ্গোয়ার গাড়িতে হামলা করে একদল লোক। সেদিনই পুলিশ এফআইআর করে। বৃহস্পতিবার জানা যায়, ডেপুটি স্পিকারের সরকারি গাড়ির ওপরে হামলার অভিযোগে ১০০ জন কৃষকের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার মামলা করা হয়েছে। পুলিশের বক্তব্য, যে কৃষকরা বিতর্কিত কৃষি আইনগুলির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন, তাঁরাই ওই হামলার সঙ্গে জড়িত।
অভিযুক্তদের মধ্যে আছেন দুই কৃষক নেতা হরচরণ সিং ও প্রহ্লাদ সিং। তাঁদের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতা বাদে খুনের চেষ্টা ও সরকারি কর্মীকে কর্তব্যপালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবারই সুপ্রিম কোর্ট বলে, দেশদ্রোহিতা আইন ব্রিটিশ আমলে তৈরি হয়েছিল। ওই আইন ঔপনিবেশিক। স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরেও ওই আইনের প্রয়োজনীয়তা আছে কিনা, খতিয়ে দেখবে সুপ্রিম কোর্ট।
শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি এন ভি রামানা বলেন, “দেশদ্রোহিতা আইন ঔপনিবেশিক। স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরেও কি ওই আইনের প্রয়োজন আছে?” প্রধান বিচারপতি উল্লেখ করেন, মহাত্মা গান্ধীর আন্দোলন দমন করার জন্যও ব্রিটিশরা এই আইন ব্যবহার করেছিল। ওই আইনের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি পিটিশন জমা পড়েছে শীর্ষ আদালতে।
গত কয়েকদিন ধরে হরিয়ানায় কৃষক আন্দোলন নিয়ে অশান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। ফতেহাবাদ, ঝাজ্জর, হিসার এবং যমুনানগর থেকে কৃষকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের খবর আসছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, যতদিন তাঁদের দাবি না মেনে নেওয়া হচ্ছে, ততদিন তাঁরা বিজেপি বা তার জোটসঙ্গী জননায়ক জনতা পার্টির নেতাদের কোনও সভা করতে দেবেন না।
হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খট্টর গত মাসে কৃষকদের সতর্ক করে বলেন, সীমা ছাড়ালে কারও উপকার হবে না। এর মধ্যে কৃষক নেতা রাকেশ সিং টিকায়েত ঘোষণা করেছেন, আগামী ১৯ জুলাই, সংসদের সামনে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দেখাবেন। ওইদিনই সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হচ্ছে।
গত সেপ্টেম্বরে সংসদে তিন কৃষি আইন পাশ হওয়ার পর থেকেই কৃষকরা বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন। এই আইন মানতে তাঁরা নারাজ। পাঞ্জাব, হরিয়ানা এবং উত্তরপ্রদেশের পশ্চিমাঞ্চলের কৃষকরা দিল্লির তিনটি সীমান্ত অঞ্চলে গিয়ে জড়ো হয়ে একটানা অবস্থান করে চলেছেন। বহু বাক-বিতন্ডার পরও এখনও অবধি তাঁদের দাবির কোনও মীমাংসা হয়নি।
এপ্রিল মাসে সুপ্রিম কোর্ট বলে, "বৃহত্তর সমস্যার সমাধান রাস্তা অবরোধ করে হয় না। এর জন্য বিচারবিভাগ, প্রশাসন এবং রাজনীতির দ্বারস্থ হতে হয়।" বিচারপতিদের বক্তব্য, যা-ই হোক না কেন, রাস্তা অবরোধ করে সাধারণ মানুষের অসুবিধে ঘটানো অনুচিত।