সদ্যমৃত বাবার দেহ আগলে বসে ১০ বছরের একলা ছেলে! মা ও ঠাকুমা করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে
দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি মা ও ঠাকুমা। বাড়িতে অসুস্থ বাবার সঙ্গে একা রয়েছে ১০ বছরের ছেলে। এরই মধ্যে আচমকা মারা গেলেন বাবা। ছোট্ট ছেলে কী করবে ভেবে না পেয়ে, ভয়ে, কষ্টে বাবার দেহ আগলে বসে রই দিনভর। শেষমেশ প্রতিবেশী
শেষ আপডেট: 10 May 2020 14:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি মা ও ঠাকুমা। বাড়িতে অসুস্থ বাবার সঙ্গে একা রয়েছে ১০ বছরের ছেলে। এরই মধ্যে আচমকা মারা গেলেন বাবা। ছোট্ট ছেলে কী করবে ভেবে না পেয়ে, ভয়ে, কষ্টে বাবার দেহ আগলে বসে রই দিনভর। শেষমেশ প্রতিবেশীরা বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশকে জানান। এই চরম মর্মস্পর্শী ঘটনাটি ঘটেছে চেন্নাইয়ের ভিলুপ্পুরামে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার কথা শুনেই তাঁরা ব্যবস্থা নিয়েছেন গোটা পরিবারের। ১০ বছরের জিভাকে আপাতত তার কাকার বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের তরফে পাঁচ হাজার টাকা, ২০ কেজি চাল, সবজি এবং মুদিখানার সামগ্রী দেওয়া হয়েছে তাঁদের।
স্থানীয় সূত্রের খবর, ভিলুপ্পুরামের বাসিন্দা, ৩৫ বছরের আয়ানার থাকতেন মা, স্ত্রী, সন্তানকে নিয়ে। ভালই ছিলেন তাঁরা সকলে। কিন্তু কয়েক দিন আগে আচমকাই এক পথ দুর্ঘটনায় ছারখার হয়ে যায় সবকিছু। দীর্ঘদিন চেন্নাইয়ের হাসপাতালে শুয়ে লড়াই করে প্রাণে বেঁচে গেলেও, পঙ্গু হয়ে যান আয়ানার। শয্যাশায়ী হয়ে যান বিছানায়। শরীরের একটা অংশ অসাড়ও হয়ে যায়।
এরই মধ্যে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ছড়ায় গোটা দেশে। চেন্নাইয়ের ওই সরকারি হাসপাতালেও ভিড় বাড়তে থাকে কোভিড রোগীদের। তাই হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয় আয়ানারকে। বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে গিয়ে সাবধানে রাখতে বলেন চিকিৎসকরা। কিন্তু ফেরার পরেই ঘটে যায় আরও একটি বিপদ। আয়ানারের মা ও স্ত্রীর করোনা উপসর্গ দেখা দেয়!
উপসর্গ বাড়ার ফলে স্থানীয় এক হাসপাতালে ভর্তি করতে হয় আয়ানারের স্ত্রী ধামান ও মা মুনিয়াম্মালকে। পরীক্ষার পরেই আশঙ্কা সত্যি হয়, তাঁরা দু'জনেই করোনা আক্রান্ত বলে জানা যায়। দিন তিনেক আগেই আইসোলেশনে চিকিৎসা শুরু হয় তাঁদের।
বাধ্য হয়েই পঙ্গু ও অসুস্থ বাবা আয়ানারকে নিয়ে একা থেকে যায় ১০ বছরের জিভা। এই অবস্থাতেই আচমকা মারা যান আয়ানার। ছোট্ট জিভার চোখের সামনেই ঘটে যায় এই দুঃসহ ঘটনা। কিন্তু বাড়িতে কেউ নেই! কাকে ডাকবে, কাকে বলবে, তাও বোঝেনি জিভা। তাই বাবার দেহের সামনে বসেই মা ও ঠাকুমার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে সে। ছোট্ট ছেলেটি বোঝেনি, অন্তত ১৪ দিন আগে হাসপাতাল থেকে ফেরার কোনও সম্ভাবনা নেই তার মা ও ঠাকুমার।
তবে কোনও ভাবে বিষয়টি টের পেয়ে যান প্রতিবেশীরা। তার পরেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান তাঁরা। খবর দেন পুলিশেও। ভিলুপ্পুরামের এসপি এস জয়কুমার বলেন, “শিশুটির মা ও ঠাকুমা বাড়ি থেকে দূরে রয়েছেন এই দুঃসময়ে। স্বামী ও সন্তানের মৃত্যুর খবরে ভেঙে পড়েছেন দু'জনেই। কিন্তু তাঁরা সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত সেখানেই থাকতে হবে তাঁদের, বাড়ি ফেরার উপায় নেই। তবু অবস্থার কথা বিবেচনা করে আয়ানারের শেষকৃত্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই একবার আনা হবে তাঁদের। এটুকুই সান্ত্বনা।”