দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘পোশাক ও দাড়ি’ দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের আপত্তির কারণে গেস্টহাউস থেকে কার্যত বার করে দেওয়া হল ১০ জন শিক্ষককে। খোদ কলকাতা শহরে সোমবার সকালের এই ঘটনায় স্তম্ভিত অনেকেই। পূর্ব বিধান নগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
জানা গেছে, বিকাশভবনে কাজ ছিল মালদহের কয়েক জন মাদ্রাসার শিক্ষকের। এছাড়াও শিক্ষক ঐক্য মুক্ত মঞ্চের রাজ্য সম্পাদক ও বিশিষ্ট নেতৃত্বদের সঙ্গেও কিছু আলোচনা করার ছিল শিক্ষকদের৷ তাঁদের বক্তব্য, সেই পরিকল্পনা করেই সল্টলেকের ডিএল ব্লকের ৩৯ নম্বর বাড়ির গেস্ট হাউসে অগ্রিম-সহ রুম বুক করা ছিল তিন দিনের৷
আজ সোমবার ভোর ৬টা নাগাদ সেই গেস্ট হাউসে পৌঁছে সমস্ত নথি দেখিয়ে তাঁরা রুমে ঢোকেন, দু'ঘণ্টা পরে তাঁদের বলা হয়, এখানে থাকা যাবে না, সিএল ব্লকের ১৬৪ নম্বর বাড়ির গেস্টহাউসে যেতে হবে। অভিযোগ, সেখানে গিয়ে তাঁদের তিন ঘণ্টা বসিয়ে রেখে চূড়ান্ত অপমান করা হয়।
জানা গেছে, সে সময়েই ওই গেস্ট হাউসের পাশের বাড়ির বাসিন্দারা আপত্তি তোলেন ওই শিক্ষকদের থাকা নিয়ে৷ এর পরে বহু তর্কবিতর্কের পরে মুষলধারায় বৃষ্টি মাথায় নিয়ে কার্যত তাঁদের তাড়িয়ে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে গেস্ট হাউসের ম্যানেজার বলেন, "সবাই মুসলিম তো, আর বিশেষ করে তাঁদের পোশাক ও দাড়ি দেখে এলাকাবাসী প্রবল আপত্তি করছে৷ আমি নিরুপায়৷”
ওই শিক্ষকদের দাবি, তাঁরা চরম অপমানিত বোধ করেছেন। কেবল মুসলিম হওয়ার অপরাধে কলকাতা শহরের সল্টলেক এলাকার মতো জায়গায় এমন ঘটনার সম্মুখীন হবেন, ভাবতেও পারেননি তাঁরা। তাঁদের মধ্যে মালদহের কৃষ্ণপুর মাদ্রাসা শিক্ষাকেন্দ্রের প্রধান শিক্ষক সাদেক আলির অবসরের আর মাত্র এক বছর বাকি। তিনি বললেন, "শিক্ষক জীবনে এমন ঘটনার সম্মুখীন হইনি। কল্পনাতেও আসেনি যে এই দিন দেখতে হবে। আমার স্কুলেও বহু শিক্ষক এবং কর্মী হিন্দু সম্প্রদায়ের। কখনও এমন আচরণ কেউ করেননি।"
বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করে শিক্ষক ঐক্য মুক্ত মঞ্চের তরফে নবান্নেও চিঠি দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে জানানো হয়েছে, অনভিপ্রেত এই ঘটনার বিহিত চান তাঁরা।