দ্য ওয়াল ব্যুরো : আগামী সপ্তাহেই বিধানসভা নির্বাচন হবে বিহারে। বিরোধী নেতা তেজস্বী যাদব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তাঁর দল আরজেডি জিতলে ১০ লক্ষ তরুণ-তরুণীকে সরকারি চাকরি দেওয়া হবে। মঙ্গলবারই মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার রাষ্ট্রীয় জনতা দল নেতার এই প্রতিশ্রুতিকে 'অবাস্তব' বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, বিশ্বে কারও পক্ষে বিহারে ১০ লক্ষ মানুষকে চাকরি দেওয়া সম্ভব নয়।
গোপালগঞ্জে এক জনসভায় নীতীশ সরাসরি তেজস্বীর নাম না করে বলেন, "অত কর্মীকে বেতন দেওয়ার টাকা আসবে কোথা থেকে? আপনারা কি কোনও দুর্নীতি করে টাকা আনবেন? দুর্নীতি করে তো আপনাদের কেউ কেউ জেলে আছেন। নাকি আপনারা নকল টাকা ছাপানোর কথা ভাবছেন?" পশুখাদ্য কেলেংকারির মামলায় জেলে আছেন তেজস্বীর বাবা লালুপ্রসাদ যাদব। নীতীশ পরোক্ষে সেকথা উল্লেখ করেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তেজস্বী অনভিজ্ঞ। তাঁর কথায়, "যাদের কোনও ধ্যানধারণা নেই, অভিজ্ঞতা নেই, তারাই অত চাকরির প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। সারা বিশ্বে এমন ব্যাপার কি কেউ দেখেছে?" এরপর নীতীশ পাল্টা বলেন, "১০ লক্ষ কেন, যদি চাকরি দিতেই হয়, সকলকেই দেওয়া উচিত।"
বুধবার ১২ টি সভা করবেন বলে ঘোষণা করেছেন তেজস্বী। তিনি বলেন, "আমি একসময় উপমুখ্যমন্ত্রী ছিলাম। আমি যদি অনভিজ্ঞই হব, তাহলে বিজেপি কেন সবসময় ২০ টি হেলিকপ্টার নিয়ে আমাকে অনুসরণ করে?" সরাসরি নীতীশের সমালোচনা করে তেজস্বী বলেন, "মুখ্যমন্ত্রী শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। ১৫ বছর রাজ্য শাসন করার পরে তিনি বলছেন, চাকরির বেতন কোথা থেকে আসবে? বিহারের রাজ্য বাজেটের পরিমাণ ৩০ হাজার কোটি টাকা।" এরপর সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তেজস্বী বলেন, "মুখ্যমন্ত্রীর জল-জীবন-হরিয়ালি প্রকল্পে ২৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। সেই টাকায় দুর্নীতি হয়েছে। নিজের বিজ্ঞাপন দিতে মুখ্যমন্ত্রী খরচ করেছেন ৫০০ কোটি টাকা। এরপরে তিনি হাস্যকর মন্তব্য করছেন, এত লোকের বেতন কোথা থেকে আসবে?"
বিহারে এ বার ভোট গ্রহণ হবে তিন দফায়। প্রথম দফায় ২৮ অক্টোবর ১৬ টি জেলার ৭১ টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হবে। পরের দফায় ৩ নভেম্বর ভোট হবে ৯৪ টি আসনে। তৃতীয় দফায় ৭ নভেম্বর ১৫ টি জেলার ৭৮টি আসনে ভোট গ্রহণ করা হবে। ভোটের ফল ঘোষণা হবে ১০ নভেম্বর। প্রসঙ্গত, বিহার বিধানসভার মেয়াদ শেষ হবে ২৯ নভেম্বর।