Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
West Bengal Election 2026 | ‘৫০-আসন জিতে তৃণমূলকে ১৫০-আসনে হারাব’ মাতৃত্বের দুশ্চিন্তা, ‘ভাল মা’ হওয়ার প্রশ্ন—সদগুরুর পরামর্শে স্বস্তি পেলেন আলিয়ালক্ষ্য ২০২৯ লোকসভা ভোট, তড়িঘড়ি মহিলা সংরক্ষণ কার্যকরে মরিয়া মোদী! বাধা হয়ে দাঁড়াবে কি কংগ্রেস?Gold investment: যুদ্ধের বাজারে সোনার দাম কমছে! এটাই কি বিনিয়োগের সেরা সময়? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরারহস্য আর মনের অন্ধকারে ঢুকে পড়ল ‘ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড’! টিজারে চমকজিৎ-প্রযোজক দ্বন্দ্বে আটকে মুক্তি! ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’-এর মুক্তি বিশ বাঁও জলে?কিউআর কোড ছড়িয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ! কীভাবে রাতারাতি নয়ডার বিক্ষোভের প্ল্যানিং হল, কারা দিল উস্কানি?নয়ডা বিক্ষোভ সামাল দিতে 'মাস্টারস্ট্রোক' যোগী সরকারের! শ্রমিকদের বেতন বাড়ল ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত Jeet: ভুয়ো প্রচার! ভোট আবহে গায়ে রাজনীতির রঙ লাগতেই সরব জিৎ৪ হাজার থেকে নিমেষে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ফলোয়ার! এক স্পেলেই সোশ্যাল মিডিয়ার নতুন তারকা প্রফুল্ল

ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক দিয়েই তৈরি হবে প্রায় ২ লক্ষ কিলোমিটার রাস্তা, বড় উদ্যোগ কেন্দ্রীয় সরকারের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক দিয়েই তৈরি হবে রাস্তা। প্লাস্টিক দূষণ কমাতে বর্জ্য প্লাস্টিক দিয়ে রাস্তা নির্মাণের সরকারি ঘোষণা হয়েছিল সেই ২০১৬ সাল থেকেই। ভারতে ইতিমধ্যেই এক লক্ষ কিলোমিটার রাস্তা তৈরি হয়েছে ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক ব্যবহা

ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক দিয়েই তৈরি হবে প্রায় ২ লক্ষ কিলোমিটার রাস্তা, বড় উদ্যোগ কেন্দ্রীয় সরকারের

শেষ আপডেট: 9 July 2020 18:30

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক দিয়েই তৈরি হবে রাস্তা। প্লাস্টিক দূষণ কমাতে বর্জ্য প্লাস্টিক দিয়ে রাস্তা নির্মাণের সরকারি ঘোষণা হয়েছিল সেই ২০১৬ সাল থেকেই। ভারতে ইতিমধ্যেই এক লক্ষ কিলোমিটার রাস্তা তৈরি হয়েছে ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক ব্যবহার করেই। চলতি বছরের মধ্যেই প্রায় দ্বিগুণ অর্থাৎ ২ লক্ষ কিলোমিটার রাস্তা বর্জ্য প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গডকড়ী ২০১৬ সালে বর্জ্য প্লাস্টিক দিয়ে রাস্তা তৈরির ঘোষণা করেছিলেন। দেশের ১১ টি রাজ্যে মোট এক লক্ষ কিলোমিটার রাস্তা তৈরি হয়েছে ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক থেকে। সরকারি সূত্রে খবর, বাধ্যতামূলকভাবেই বর্জ্য প্লাস্টিক দিয়ে রাস্তা তৈরি শুরু করেছে গুরুগ্রাম মিউনিসিপাল কর্পোরেশন (এমসিজি)। চলতি বছরে অসমও বর্জ্য প্লাস্টিক দিয়ে রাস্তা নির্মাণ শুরু করতে চলেছে। [caption id="attachment_238527" align="alignnone" width="1200"] রাজাগোপালন বাসুদেবন[/caption] প্লাস্টিকের বর্জ্য দিয়ে প্রথম রাস্তা তৈরির কৌশল দেখিয়েছিলেন মাদুরাইয়ের থিয়াগরজার ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যাপক পদ্মশ্রী প্রাপ্ত রাজাগোপালন বাসুদেবন। ২০০১ সালেই তিনি অ্যাসফল্ট বা বিটুমেনের মিশ্রণের সঙ্গে বর্জ্য প্লাস্টিক মিশিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে রাস্তা তৈরির পদ্ধতি দেখিয়েছিলেন। তারপর থেকেই দেশে এই পদ্ধতির প্রয়োগ শুরু হয়। ভারত ছাড়াও ইন্দোনেশিয়া, ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বর্জ্য প্লাস্টিক দিয়ে রাস্তা তৈরির উন্নত প্রযুক্তি রয়েছে। ফেলে দেওয়া যে প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহার যোগ্য নয়, সেগুলিকেই বিশেষ রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় রাস্তা তৈরির উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতি কিলোমিটার প্লাস্টিকের রাস্তা তৈরি করতে প্রায় ৯ টন বিটুমেন ও ১ টন প্লাস্টিক লাগে। অপরিশোধিত পেট্রোলিয়াম থেকে তৈরি হয় বিটুমেন যা হাইড্রোকার্বনের মিশ্রণ, সড়ক নির্মাণের কাজে লাগে। প্রাকৃতিকভাবেও পাওয়া যায় বিটুমেন। সাধারণত প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি রাস্তার ৬-৮% থাকে বর্জ্য প্লাস্টিক, বাকি ৯২-৯৪% থাকে বিটুমেন। ভারতে প্রথম চেন্নাইতেই ১০০০ কিলোমিটার রাস্তা তৈরি হয়েছিল বর্জ্য প্লাস্টিক দিয়ে। তারপর পুণে, মুম্বই, সুরাট, ইনদওর, দিল্লি, লখনৌতে প্লাস্টিকের সড়ক নির্মাণ শুরু হয়। জানা গেছে, ১৬০০ টন বর্জ্য প্লাস্টিক ব্যবহার করে চেন্নাইতে ১০৩৫ কিলোমিটার রাস্তা তৈরি হয়েছে। ২০১৬ সালে পুণেতে ১৫০ মিটার রাস্তা তৈরি হয় বিটুমেন ও বর্জ্য প্লাস্টিক ব্যবহার করে। টাটা স্টীলের অনুদানপ্রাপ্ত সংস্থা জামশেদপুর ইউটিলিটি অ্যান্ড সার্ভিসেস প্রায় ১২-১৫ কিলোমিটার রাস্তা তৈরি করেছে বর্জ্য প্লাস্টিক দিয়ে যার এক কিলোমিটার মতো রয়েছে রাঁচিতেই। মধ্যপ্রদেশ গ্রামীণ সড়ক যোজনায় ১৭টি জেলায় ৩৫ কিলোমিটারের বেশি রাস্তা তৈরি হয়েছে বর্জ্য প্লাস্টিক দিয়ে। জম্মু-কাশ্মীরে ২৭০ কিলোমিটার জাতীয় সড়ক বর্জ্য প্লাস্টিক দিয়েই তৈরি। দিল্লি-মেরঠ জাতীয় সড়কের দু’কিলোমিটার রাস্তা তৈরি হয়েছে ১.৬ টন ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক থেকে। কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিদিনে প্রায় ২৫ হাজার ৯৪০ টন বর্জ্য প্লাস্টিক জমা হয়। যার ৬০% পুনর্ব্যবহার করা হয়। বাকিটা ফেলে দেওয়া হয় যা নদী-নালা, সমুদ্রে গিয়ে মেশে। ফলে নদী, সমুদ্রে মাইক্রো-প্লাস্টিক জাতীয় বর্জ্য জমা হতে থাকে যার প্রভাব পড়ে সামুদ্রিক প্রাণীদের উপরে। বাস্তুতস্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট নয়। প্লাস্টিক দিয়ে রাস্তা নির্মাণে এই উদ্যোগ স্বচ্ছ ভারত অভিযানেরই একটি অংশ। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়ছে, বিটুমেন ও প্লাস্টিকের মিশ্রণে তৈরি এই রাস্তাগুলো অনেক বেশি মজবুত। যে কোনও প্রাকৃতি দুর্যোগেও নাকি অনেক বেশি টেকসই।

```