ছাত্রী নিগ্রহের ঘটনায় মঙ্গলবার সকাল থেকেই কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে ঢাকুরিয়ার বিনোদিনী গার্লস হাইস্কুল। অভিভাবকদের অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযুক্ত শিক্ষককে। নবান্ন সূত্রে খবর, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। পুলিশ ও শিক্ষা দফতরের কাছে অবিলম্বে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য় শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এ দিকে স্কুল সূত্রে জানা গেছে, যতদিন না মামলার নিষ্পত্তি হচ্ছে স্কুলে ফিরতে পারবেন না শিক্ষক।
বিনোদিনী গার্লসের শিশুশ্রেণির সাত বছরের ছাত্রীকে হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে স্কুলেরই এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটা ঘটে গত মাসের বনধের দিনে। ছাত্রীর পরিবার জানিয়েছে, স্কুল থেকে ফিরে অস্বাভাবিক আচরণ করছিল শিশুটি। পরিবারকে সে সব কথা জানায়। কিন্তু, সেই সময় শিশুটির মা অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। পরে, বাড়ি ফিরে তিনি পুলিশকে গোটা বিষয়টা জানান। স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছেও অভিযোগ করেন।
ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ ঘটনার বিষয়ে জেনেও স্কুল কর্তৃপক্ষ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। প্রথমে কমিটি তৈরি করে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিলেও পরে এই ব্যাপারে মুখে কুলুপ আঁটে। স্কুল কর্তৃপক্ষের গাফিলতির অভিযোগ তুলে শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে এ দিন সকাল থেকে স্কুল চত্বরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন অভিভাবকরা। স্কুল গেট ভেঙে ভিতরে ঢোকার চেষ্টাও করেন।
বিক্ষোভ থামাতে লাঠিচার্জ শুরু করে পুলিশ। লাঠির ঘায়ে এক মহিলা অভিভাবকের মাথাও ফাটে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পুলিশ প্রথম থেকেই অসহযোগিতা করছিল। মহিলাদেরও রেয়াত করেনি। অন্যদিকে, পুলিশের দাবি অভিভাবকরা পুলিশ লক্ষ্য করে ইট ছুঁড়তে শুরু করেছিল। তাই বাধ্য হয়েই লাঠি চালাতে হয়েছে পুলিশকে।
ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আশ্বাস দেন ডিসি কল্যাণ মুখোপাধ্যায় ও এলাকার কাউন্সিলর রবিন দে।