দ্য ওয়াল ব্যুরো: যৌন হেনস্থার অভিযোগে উত্তাল বিনোদিনী গার্লস হাইস্কুল কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় মঙ্গলবার সকালে। অভিযুক্ত শিক্ষক গ্রেফতার হওয়ার পরে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। তবে বিদ্যালয়ের শিক্ষকমহলের একাংশের পাল্টা দাবি, হেনস্থার ঘটনা সত্যি নয়। পরিকল্পিত। এর পিছনে নির্দিষ্ট কিছু কারণ আছে বলেও দাবি করছেন তাঁরা।
এক শিক্ষিকা জানান, ৫৯ বছরের ওই অভিযুক্ত শিক্ষক অত্যন্ত সজ্জন ব্যক্তি, এত বছরে কখনও কোনও অভিযোগ ওঠেনি তাঁর বিরুদ্ধে। ওই শিক্ষিকার দাবি, স্কুল কর্তৃপক্ষের রোষের মুখে পড়েই এই পরিস্থিতির শিকার হলেন অভিযুক্ত। কী রকম?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক, যিনি স্কুলের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলেরও সদস্য, তিনি দাবি করেন, স্কুল কমিটির গত মিটিংয়ে প্রিন্সিপালের সঙ্গে মতবিরোধ ঘটে অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের। প্রিন্সিপাল তাঁকে 'দেখে নেওয়ার' হুমকিও দেন প্রকাশ্যে। কিন্তু পাল্টা প্রশ্ন উঠেছে, তাই যদি হবে, তা হলে তো এই ভাবে তো স্কুলের সম্মানও ধূলিসাৎ হল।
এক শিক্ষিকার যুক্তি, সারা স্কুলে সিসিটিভি রয়েছে। একমাত্র ওই দশ নম্বর ঘরেই নেই। দশ নম্বর ঘরটি হল, স্কুলের দু'টি বিল্ডিংয়ের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের একটি জায়গা। অর্থাৎ এক বিল্ডিং থেকে অপরটিতে যেতে ওই ঘর ব্যবহার করেন শিক্ষক, কর্মচারী, ছাত্রীরা। ফলে ওই ঘর দিয়ে প্রায় সব সময়েই কেউ না কেউ চলাচল করে। তাঁর দাবি, স্কুল চলাকালীন ওই ঘরে কাউকে একা পেয়ে হেনস্থা করা হল আর সেটা কারও চোখেও পড়ল না, তা কার্যত অসম্ভব।
ফলে স্কুলের শিক্ষকদের অনেকেরই দাবি, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হলে আসল সত্য জানা যাবে। অন্য দিকে বিক্ষোভকারী অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রথমে স্কুল কর্তৃপক্ষ কমিটি তৈরি করে বিষয়টির খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন। কিন্তু সেটা হয়নি। সেই কারণেই এই বিক্ষোভের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে
অভিযোগ, এ দিনও স্কুল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রথম থেকেই অসহযোগিতা করছিলেন অভিভাবকদের সঙ্গে। দাবি, বিক্ষোভ থামাতে যথেচ্ছ ভাবে লাঠিচার্জও করে পুলিশ। রেয়াত করা হয়নি মহিলা অভিভাবকদেরও। পুলিশের লাঠির ঘায়ে জখম হয়েছেন অনেকেই। মাথা ফেটেছে এক মহিলা অভিভাবকের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থল পৌঁছয় র্যাফ।
এই রণক্ষেত্র পরিস্থিতির জেরে চরম সমস্যার মুখে পড়েন শিক্ষিকারা। আচমকা জানলা ভেঙে ইট পড়তে থাকে, গোটের বাইরে থাকা দিদিমণিদের উপর রীতিমতো চড়াও হয় ক্ষুব্ধ অভিভাবকদের একাংশ। কারও কারও শ্লীলতাহানিও করা হয় বলে অভিযোগ। পুলিশ ব্যারিকেড করে, থানার গাড়িতে করে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয় তাঁদের।
তাতেও অবশ্য আতঙ্ক কাটেনি। রীতিমতো সিঁটিয়ে রয়েছেন অনেকে। এক শিক্ষিকার কথায়, "বিনোদিনীর শিক্ষিকা বলে সকলে আঙুল তুলছে। এ এক দুর্বিষহ পরিস্থিতি।"