ইস্তফা দিলেন ইন্টারপোলের প্রেসিডেন্ট মেং হংওয়েই
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সপ্তাহখানেক আগে নিজের দেশ চিনে গিয়ে রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ হয়েছিলেন আন্তর্জাতিক তদন্তকারী সংস্থা ইন্টারপোলের প্রেসিডেন্ট মেং হংওয়েই। সেই খবর সামনে আসার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খবর মেলে তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চিনেই তাঁকে
শেষ আপডেট: 7 October 2018 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সপ্তাহখানেক আগে নিজের দেশ চিনে গিয়ে রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ হয়েছিলেন আন্তর্জাতিক তদন্তকারী সংস্থা ইন্টারপোলের প্রেসিডেন্ট মেং হংওয়েই। সেই খবর সামনে আসার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খবর মেলে তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চিনেই তাঁকে আটক করা হয়েছে তাঁকে। রবিবার ইন্টারপোলের তরফ থেকে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, ইস্তফা দিয়েছেন মেং। দ্রুত তাঁর ইস্তফা মঞ্জুরও করবে ইন্টারপোল।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর ফ্রান্সের লিঁয়োয় ইন্টারপোলের সদর দফতর থেকে চিন সফরে বেরিয়ে উধাও হয়ে গিয়েছিলেন বছর চৌষট্টির মেং। কোনও খোঁজ মিলছিল না তাঁর। তাঁর স্ত্রী গ্রেস মেং ফরাসি পুলিশের কাছে অভিযোগ জানালে তদন্ত শুরু হয়।
হংকংয়ের এক সংবাদপত্র দাবি করে, চিনে পৌঁছনোর পর জিজ্ঞাসাবেদর জন্য তাঁকে আটক করেছে শৃঙ্খলারক্ষাকারী কর্তৃপক্ষ। তবে সেটা স্পষ্ট নয়। এর পরই ইন্টারপোলের প্রেসিডেন্টের রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে ঘিরে জলঘোলা শুরু হয়। সম্প্রতি চিনের এক সরকারি সূত্র জানিয়েছে, কোনও এক অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে নিয়ম ভেঙেছিলেন মেং। তাই তদন্তের স্বার্থে তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
২০১৬ সালে ইন্টারপোলের প্রথম চিনা প্রধান হন মেং। তার আগে চিনের নিরাপত্তা বিষয়ক দফতরের মন্ত্রী ছিলেন তিনি। ইন্টারপোলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর ফ্রান্সের লিঁয়োতেই বসবাস শুরু করেন মেং। ২০২০ সাল পর্যন্ত ওই পদে থাকার কথা ছিল তাঁর। তার আগেই ইস্তফা দিলেন তিনি। ইন্টারপোল সূত্রে খবর, চিনের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা করার চেষ্টা চলছে।
প্রেসিডেন্টের স্ত্রী গ্রেস মেং ফরাসি পুলিশকে জানিয়েছিলেন, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগে তাঁর স্বামী তাঁকে মেসেঞ্জারে ছুরির ইমোজি পাঠিয়ে লিখেছিলেন তিনি বিপদে রয়েছেন। তার পরেই মেংয়ের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত হয়ে ওঠেন গ্রেস।
আরও পড়ুন: চিন সফরে গিয়ে রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ ইন্টারপোলের প্রেসিডেন্ট মেং হংওয়েই
চিনের আইন অনুযায়ী, কোনও সন্দেহভাজনকে আটক করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর পরিবারকে জানাতে হবে। সেই সঙ্গে ওই সন্দেহভাজন যে সংস্থায় কাজ করেন, সেই সংস্থাকেও জানাতে হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টকে আটক করার বিষয়ে ইন্টারপোলকে প্রথমে কিছুই জানায়নি চিন। এমনকি তাঁর স্ত্রীর কাছেও বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল।
এর আগেও ২০১৫ সালে চিনের শৃঙ্খলারক্ষা দফতরের এক উচ্চপদস্থ কর্তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। মেংয়ের সঙ্গেও এমন কিছু ঘটতে চলেছে কিনা সেটাই চিন্তার বিষয়।