দ্য ওয়াল ব্যুরো: কী অদম্য ইচ্ছাশক্তি! লক্ষ্যে পৌঁছনোর কী দুরন্ত প্রয়াস! হেরে যাওয়া নয়, বরং এগিয়ে চলাই যে সাফল্যের চাবিকাঠি সেটাই প্রমাণ করেছে একটি ছোট্ট ভালুকের ছানা।
তিন মিনিটের একটি ভিডিও ক্লিপ মন জয় করেছে বিশ্ববাসীর। মায়ের সঙ্গে বরফে ঢাকা পাহাড় চড়তে গিয়ে রীতিমতো নাস্তানাবুদ একটি ভালুক ছানা। এক বার নয়, চারবারের চেষ্টায় পাহাড় চড়েছে সে। একবার উঠেছে, একবার পড়েছে, আবার উঠেছে। আর প্রতিবারের চেষ্টার যে লড়াই সেটাই এই ভিডিওর মাস্টারস্ট্রোক। আপ্লুত হয়ে তাকিয়ে দেখতে হয় এই জার্নির সবটুকু।
ব্রিটিশ কলম্বিয়ার তুষারাবৃত একটি খাড়াই পাহাড়ে মা ভালুক ও তার ছানার এই ওঠা-পড়ার গল্প ড্রোনের লেন্সের সুবাদে আলোড়ন তুলেছে নেট দুনিয়ায়। উপর থেকে, পাশ থেকে গোটা ঘটনাকেই আষ্টেপৃষ্টে বেঁধে ফেলেছে ড্রোনের লেন্স।
ঘটনার শুরুটা এইরকম। একটা পাহাড়ি ভালুক তার ছানাকে নিয়ে পাহাড় চড়ছে। পাহাড় পেরিয়েই তার বসতি। আপাদমস্তক বরফে মোড়া পাহাড়। ঝুরঝুরে বরফ যেন মখমলের সাদা গালিচার মতো ঢেকে রেখেছে গোটা পাহাড়কে। নীচের দিকে শুধু একফালি পাথুরে জমি। মা শুরু করেছে ট্রেকিং। তাকে অনুসরণ করছে ছানা। তরতরিয়ে পাহাড়ে উঠে গেল মা ভালুক। হাঁচোড়পাঁচোড় করে বেশ খানিকটা উঠে ছানা গড়িয়ে গেল নীচে। ঝুরঝুরে বরফে পা পিছলে গড়গড়িয়ে নেমে গেল বেশ খানিকটা। ফের ওঠার চেষ্টা, ফের পতন। চার হাত ওঠে, তো সাত হাত গড়ায়। কিন্তু, হার মানতে রাজি নয় সেটা তার হাবভাবে, চালচলনে স্পষ্ট। একবার তো চূড়া ছুঁইছুঁই করেও পারল না, মা ভালুকের মৃদু বকুনিতে ও হাল্কা চাপড়ে ফের গড়িয়ে নীচে। শেষে বুদ্ধি করে পাথুরে জমি দিয়ে খানিকটা হেঁটে, খানিকটা গড়িয়ে, ছোট্ট ছোট্ট হাত দিয়ে বরফ খামচে ধরে পাহাড়ে চড়ল সে।
https://twitter.com/ziyatong/status/1058769320887513090
একটা ছোট্ট ঘটনা। কিন্তু তার মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে বাঁচার এক অদম্য তাগিদ। নিত্য নানা রকম বিপদের সম্মুখীন হতে হয় বন্য প্রাণকে। কখনও শিকারির আক্রমণ, আবার কখনও প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সব মিলিয়েই বাঁচার লড়াই। ডারউইনের Survival Of The Fittest থিওরি মেনেই হয়তো জন্ম থেকে লড়াই করার একটা সহজাত প্রবৃত্তি জন্ম নেয় বন্যপ্রাণিদের মধ্যে। তারই প্রকাশ দেখা গেছে ওই ভালুক ছানার মধ্যেও। সে জানে লড়াইটা তার। লক্ষ্যে পৌঁছতে না পারলে তার জন্য অপেক্ষা করছে নির্মম মৃত্যু। সেখানে তাকে বাঁচাতে আসবে না কেউ, হয়তো তার মা’ও নয়। এই ভিডিও সামনে আসার পর থেকেই নানা রকম বিতর্ক শুরু হয়েছে। বন্যপ্রাণিদের উপর অযথা ড্রোন দিয়ে নজরদারি চালানোর জন্য নিন্দা করেছে অনেক পশুপ্রেমী সংগঠনই। তবে, সব মিলিয়ে যে বিষয়টা দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে সেটা হল নিজের সন্তানকে বিপদে দেখেও বাঁচানোর বিন্দুমাত্র প্রয়াস করেনি মা ভালুক। উল্টে বকুনি দিয়ে ঠিক পথ চেনানোর চেষ্টা করেছে। ভিউয়ারের মত নিয়ে, তাই এটা নিছকই কোনও মনোরঞ্জনের ভিডিও নয়, বরং মানব সমাজের কাছেও একটা বার্তাস্বরূপ।