আখলাক হত্যা-মামলা ভেস্তে দিতেই কি পরিকল্পিত ভাবে খুন পুলিশ কর্তা? অফিসার খুনে মুখে কুলুপ যোগী আদিত্যনাথের
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গো-হত্যাকারীদের ধরতে সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। অথচ বুলন্দশহরে নিহত পুলিশ অফিসার সুবোধকুমার সিংহের হত্যাকাণ্ডে কার্যত মুখে কুলুপ এঁটেছেন তিনি।
পুলিশ খুনের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত যোগেশ রাজ-সহ প
শেষ আপডেট: 4 December 2018 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গো-হত্যাকারীদের ধরতে সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। অথচ বুলন্দশহরে নিহত পুলিশ অফিসার সুবোধকুমার সিংহের হত্যাকাণ্ডে কার্যত মুখে কুলুপ এঁটেছেন তিনি।
পুলিশ খুনের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত যোগেশ রাজ-সহ পাঁচ জনকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃত যোগেশ বুলন্দশহরের বজরং দলের প্রধান ও উত্তরপ্রদেশের বিজেপি যুব মোর্চার সদস্য। বাকি ধৃতদের মধ্যে এক জন ভিএইচি এবং একজন বিজেপি যুব মোর্চার নেতা। এফআইআরে নাম থাকা বেশিভাগ অভিযুক্তই বজরং দল বা হিন্দু যুব বাহিনীর সদস্য। ফলে পুলিশ খুনের পিছনে উগ্র হিন্দুত্ববাদী যোগই স্পষ্ট হচ্ছে। তদন্তে গতি আনতে যোগী সরকারকে নোটিশও পাঠিয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। মঙ্গলবার রাতে তদন্তকারী অফিসারদের নিয়ে বৈঠক করেছেন যোগী আদিত্যনাথ। সূত্রে খবর, সেই বৈঠকে গো-হত্যাকারীদের পাকড়াও করতেই বেশি জোর দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‘গো-হত্যার সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।’’
ঘটনার সূত্রপাত গত সোমবার সকালে। বুলন্দশহরে ২৫টি গবাদি পশুর দেহ উদ্ধার করতে গিয়েই বিপত্তি বাধে। গো-হত্যার গুজব ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। পথে নামে স্থানীয় বজরং দল ও হিন্দু যুব বাহিনীর সদস্যেরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছন সুবোধ। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, পুলিশ অফিসারকে দেখেই পাথর ছুড়তে শুরু করে বিক্ষোভকারীরা। তাঁর চালক রাম আশরে জানিয়েছেন, পাথরের ঘায়ে গুরুতর জখম হন সুবোধ। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময়েই গাড়ি ঘিরে ধরে ‘মার মার’ রব তোলে বিক্ষোভকারীরা। চালকের কথায়, গাড়ির মধ্যেই গুলি করে খুন করা হয় অফিসারকে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বলছে, ভুরুর নীচে গুলি লেগে মৃত্যু হয়েছে সুবোধের। গো-রক্ষাবাহিনীর তাণ্ডবে প্রাণ গেছে সুমিতকুমার সিংহ নামে বছর কুড়ির এক যুবকেরও।
তদন্তকারীদের কথায়, প্রাথমকি ভাবে মনে করা হচ্ছে সুবোধকে তাঁরই সার্ভিস রিভলবার দিয়ে খুন করা হয়েছে। গোহত্যার গুজবের জেরে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের তাণ্ডবে পুলিশ অফিসারের প্রাণ যাওয়ার পর প্রশ্ন উঠেছে নানা মহলে। অফিসারের পরিবারের দাবি এই খুন আসলে ষড়যন্ত্র। আখলাক খুনের তদন্তকারী অফিসার ছিলেন বলে পূর্বপরিকল্পিত ভাবেই খুন করা হয়েছে। ২০১৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর উত্তরপ্রদেশের দাদরির বিসারা গ্রামে গুজব রটে যায়, মহম্মদ আখলাকের বাড়িতে গরুর মাংস রয়েছে। গ্রামের মানুষ হামলা চালায় আখলাকের বাড়িতে। গণপিটুনিতে মারা যান ৫২ বছরের আখলাক। সেই খুনের তদন্ত প্রথম শুরু করেন সুবোধই। তিনিই ছিলেন আখলাক খুনের প্রথম তদন্তকারী অফিসার ও সেই হিসেবে মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীও। প্রশ্ন উঠছে, আখলাক খুনের মামলায় জল ঢেলে দিতেই কি পরিকল্পিত ভাবে গো-হত্যার গুজব ছড়িয়ে তাণ্ডব বাধিয়ে পুলিশ অফিসারকে খুন করা হল?
খুনের ঘটনায় উঠে এসেছে দুই নাবালকের নামও। মঙ্গলবার রাতে বুলন্দশহরের দুই কিশোরকে থানায় ডেকে পাঠায় পুলিশ। তাদের মধ্যে একজনের বয়স ১১, অন্যজনের ১২। সম্পর্কে তারা তুতো ভাই। একজনের বাবা বলেছেন, “জানি না পুলিশ কেন আমাদের ছেলেদের ডেকে পাঠাল। আমারও ফোন ম্বর নিয়েছে। এখনও অবধি ওদের কোনওরকম জিজ্ঞাসাবাদ করেনি।” পুলিশ ষড়যন্ত্র করে নাবালকদের নাম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়াচ্ছে বলে দাবি তাঁর।